সব ধরনের অর্থপাচারের তদন্ত করতে পারবে দুদক, দাবি কমিশনার জহুরুলের

২০১৬ সালে আইন সংশোধনের ফলে দুদকের অর্থ পাচার মামলার তদন্ত করার ক্ষমতা সঙ্কুচিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 04:57 PM
Updated : 26 July 2022, 04:57 PM

অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে ক্ষমতা না থাকলেও উচ্চ আদালতের আদেশ থাকায় অর্থ পাচার সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধের তদন্ত দুদক করতে পারবে বলে দাবি করেছেন সংস্থাটির কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক।

দুদকের অর্থ পাচার মামলা ও তদন্তের ক্ষমতা সংক্রান্ত হাই কোর্টের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করে মঙ্গলবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

২০১২ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে ২৮ ধরনের অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় এসব অপরাধের তদন্তের বিষয়ে দুদকের ক্ষমতা থাকলেও চার বছরের মাথায় ২০১৬ সালে আইন সংশোধনের ফলে দুদকের ক্ষমতা সংকুচিত হয়।

ওই সংশোধনীর কারণে দুদকের কাছে কেবল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষমতা রেখে বাকি ২৭টি ধারার অপরাধ সরকারের অন্যান্য সংস্থার হাতে চলে যায়।

এ প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার জহুরুল হক বলেন, “মানিলন্ডানিং প্রতিরোধ যে আইন দেশে আছে তাতে ২৮টি অফেন্স (সম্পৃক্ত অপরাধ) আছে। সেসব অফেন্সের মধ্যে শুধু একটা দুদক করতে পারত, সেটা হল- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি মানিলন্ডারিং করে সেটা।”

২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলা বাতিল চেয়ে ২০২১ সালে হাই কোর্টে আবেদন করেন এক আসামি। ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ আদেশ দেয়।

হাই কোর্টের এই আদেশের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে কমিশনার বলেন, “সেই জাজমেন্টে বলছে যে, দুদক সবগুলো পারবে। এতে বলা হয়েছে- কমিশনের তফসিলভুক্ত যেসব অপরাধ তা তদন্ত করতে পারবে। এই ক্ষমতা কমিশনের আছে।”

তবে সংশোধিত অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে এই ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে মন্তব্য করে সাবেক জেলা জজ জহুরুল হক বলেন, “এ ব্যাপারে যা বলতে পারবেন- পার্লামেন্টে আইন পাস করা আছে, আমাদের এটি…। এই ব্যাপারে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত আছে, পার্লামেন্ট আইন যাই পাস করুক, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আদেশ আমাদের মানতে হবে।

“সংবিধানের ১১১ এবং ১১২ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে। এটা আমাদের মানতেই হবে। সেই আইন অনুযায়ী আমাদের সক্ষমতা আছে।”

Also Read: নতুন দুদক কমিশনার বললেন, পাচার হচ্ছে ‘প্রচুর’ টাকা 

তিনি বলেন, “আমাদের সক্ষমতা আছে এই জন্য যে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানতে আমরা বাধ্য। দুদক এখন মানিলন্ডারিংয়ের ব্যাপারে শিডিউলভুক্ত যে কোনো অপরাধ তদন্ত করতে পারবে।

“আইনের ফলে আমরা শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি মানিলন্ডারিং করে এর তদন্ত করতে পারতাম, অন্যগুলো পারতাম না। এখন সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী আমরা পারি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক