০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

মজুরি আন্দোলন: ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ‘লাইভ মনিটরিং’ জোরদার করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 02:12 PM

Updated : 03 Nov 2026, 02:12 PM

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বাহিনীর সদর দপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়েছে, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ‘লাইভ মনিটরিং’ জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও সেখানে বলা হয়েছে।

বিজিবি বলছে, বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুরসহ কিছু এলাকার পরিস্থিতি ‘নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের’ কথা বলা হয়েছে।

বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ভিডিও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। মঙ্গলবার সকালেও মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাতের খবর এসেছে।

এদিন সকালে মিরপুর ১১ সেকশনে মেট্রো স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে দেখা যায়।

গত বৃহস্পতিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান পোশাক শ্রমিকরা। সেদিন দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকালে শ্রমিকরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এরপর শনিবার মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন। শুরুতে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ হলেও পরে তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।

সোমবার আন্দোলনরত শ্রমিকদের মিরপুরের সড়কে নামতেই দেওয়া হয়নি। মিরপুর ১৪ এলাকায় শ্রমিকদের এক দফা ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে মিরপুর ২ এলাকায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।