ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ‘জরুরি সভা’ও হয়নি
এখন সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে, যাতে তাকসিম এ খান ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।
নিয়মিত সভায় ‘বাধা’ পেয়ে জরুরি সভা ডেকেছিল ঢাকা ওয়াসার পরিচালনা পর্ষদ, রোববার সেই সভাটিও হয়নি। এখন আগামী মঙ্গলবার সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় ওয়াসা প্রশাসন সভা করতে বোর্ডকে বাধা দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার নিয়মিত সভা আহ্বান করেছিল ঢাকা ওয়াসা বোর্ড। ওয়াসা প্রশাসনের ‘অসহযোগিতার’ কারণে সেদিন তা হয়নি। বৃহস্পতিবার সভা করতে চাইলে সেদিনও সভা করতে পারেনি বোর্ড।
বারবার ‘বাধা’ পাওয়ায় করণীয় ঠিক করতে রোববার ‘বিশেষ জরুরি’ সভা আহ্বান করেছিল পর্ষদ।
সেই সভাটি না হওয়ার পর ওয়াসার এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মঙ্গলবার সাধারণ সভা হবে, ওই সভায় তাকসিম এ খান অংশ নেবেন, এ কারণে রোববার স।া হয়নি।
রোববার সভাটি আগামী মঙ্গলবার নিয়মিত সভা হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায়’ রোববারের সভার সময় পরিবর্তন হয়েছে।
“ওই সভার সময় আমরা চেঞ্জ করেছি। এটা ইমার্জেন্সি মিটিং হবে না, নরমাল মিটিং হবে আগামী পরশুদিন মঙ্গলবার।”
কী সমস্যা হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটা তো আপনারা জানেনই। এটা বলে আর লাভ কী? আমি এখন এগুলো বলতে চাই না।”
এর আগে জরুরি সভার আলোচ্যসূচিতে লেখা হয়েছিল, “ঢাকা ওয়াসা প্রশাসন স্বাভাবিক বোর্ড সভা করতে অসহযোগিতা করার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়াসার এক বোর্ড সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জরুরি বৈঠক না করতে বিভিন্নজনকে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন। ওই সভায় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকও থাকতে চান। সে কারণে জুম মিটিং কল করা হয়েছে।
“কিন্তু আমরা ইনপ্রেজেন্স মিটিং করতে চেয়েছিলাম। তাকসিম এ খান ওই মিটিংয়ে থাকতে চায়, কিন্তু উনি তো ছুটিতে। ছুটিতে থেকে মিটিংয়ে অংশ নেবেন কীভাবে? সে যদি মিটিংয়ে থাকে, তাহলে আমরা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলব।”
১৯৯৬ সালের পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন আইনের ১১ ধারা অনুযায়ী, প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার বোর্ড সভা হতে হবে। চেয়ারম্যান অথবা তার অবর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে সভা আহ্বান করবেন।
ওই আইনের ১১(৯) ধারা অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ডের যে কোনো সভায় যোগ দিতে পারবেন এবং এর কার্যধারায় অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু কোনো ভোট দিতে পারবেন না।
পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং নিজের চিকিৎসা করাতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছয় সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান তাকসিম। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ছুটিতে থাকার সময় ভার্চুয়ালি অফিস করার জন্য বোর্ডের কাছে আবেদন করেন তিনি। বোর্ড আবেদন নাকচ করলে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। মন্ত্রণালয়ও তাকে বিদেশে বসে অফিস করার অনুমতি দেয়নি।
২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দুই মাস যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন তাকসিম। তখন সেখান থেকেই দাপ্তরিক কাজ সারেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সেসময় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
তাকসিম ২০০৯ সাল থেকে ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে রয়েছেন। প্রথম নিয়োগের পর থেকে মোট ছয়বার তার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
