৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

সমস্যার সমাধান কেবল কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় হলেই হবে না: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

কেবল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালে হবে না, মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 03:52 PM

Updated : 31 Oct 2026, 03:52 PM

কোনো সমস্যার একটি ভালো সমাধান কেবল কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় হলেই হবে না, বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও নতুন ধারণাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণেও তাদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘গভর্নেন্স সলিউশনস কম্পিটিশন’-এর বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু বড় বড় সমস্যার কথা বললে হবে না, এমন সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে, যার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান তারা নিজেরা প্রস্তাব করতে পারবে। সমস্যার ব্যাপ্তি, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সমস্যাটির প্রভাব কতটা গভীর, এসব বিষয় তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে।

তার কথায়, এক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে জরিপ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার, সংবাদ প্রতিবেদন ও নির্ভরযোগ্য গবেষণার তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন টুলও সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

স্কুলের সামনে যানজট নিয়ন্ত্রণ কিংবা এলাকার খাল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো সমস্যা সমাধানে সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু একদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালে হবে না, মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিযোগিতার বিশেষ দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং তাদের নিজেদের চিন্তা ও প্রস্তাবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়া কাছ থেকে বোঝার একটি সুযোগ।

নির্বাচিত তিনটি দল তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংসদ সদস্যের কার্যালয় এবং প্রস্তাবের বিষয়বস্তু শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট হলে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ পাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় সংসদের সম্পৃক্ততাও নিশ্চিত করা হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমি চাই, ঢাকা-১৩ এর শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা সঠিকভাবে কাজে লাগুক। আমরা পুরো দেশকে দেখাতে চাই, আমাদের শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে তাদের হাত ধরেই দেশ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।”

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছে, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১২৪টি দলের কাছ থেকে প্রথমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন জমা নেওয়া হবে। সাত সদস্যের বিচারক প্যানেল প্রতিবেদনগুলো মূল্যায়ন করবেন।

সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা পাঁচটি দল জাতীয় পর্যায়ের দর্শক ও অতিথিদের সামনে ১৫ মিনিটের পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত উপস্থাপনার ভিত্তিতে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ দল নির্বাচন করা হবে।

কর্মশালায় প্রতিযোগিতার বিচারক, আয়োজক দলের সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।