Published : 08 Feb 2023, 07:17 PM
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত তুরস্কে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে ৬০ সদস্যের একটি ‘সম্মিলিত সাহায্যকারী দল’।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন জানান, বুধবার রাত ১০ টায় বাংলাদেশের একটি উড়োজাহাজে করে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হবে উদ্ধারকারী দলটি।
ফায়ার সার্ভিসের ১২ সদস্যের পাশাপাশি সেনা বাহিনীর ২৪ জন এবং ১০ জন চিকিৎসক রয়েছেন এই দলে।
পুরান ঢাকায় ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে মাইন উদ্দিন বলেন, “ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সাহায্য চাওয়া হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে তুরস্কে একটি সম্মিলিত সাহায্যকারী দল পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।”
তিনি বলেন, “সম্মিলিত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে অন্তর্ভুক্ত করায় আমরা সম্মানিত বোধ করছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য এটি ফায়ার সার্ভিসের প্রথম বিদেশ গমন। এর আগের নেপালে পাঁচ জন সদস্য গিয়েছিলেন।”
উদ্ধারকারী দল সেখানে ৭ দিন থাকবে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, হালকা যন্ত্রপাতি নিয়ে এই দলটি তুরস্কে যাচ্ছে।
রোববার ভোরে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গাজিয়ানতেপে ৭ দশমিক ৮ মাত্রায় শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মাত্র ১০০ কিলোমিটার উত্তরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রায় আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
বড় ধরনের এই ভূমিকম্পে আশেপাশের অঞ্চলগুলো পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। তুরস্ক এবং পাশের দেশ সিরিয়ায় ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, আহত হয় আরও অন্তত ৪০ হাজার মানুষ।
এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। শোক পালনে বৃহস্পতিবার জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হবে বিশেষ প্রার্থনা।
সোমবার তুরস্ক ও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের লেখা পৃথক শোক বার্তায় সহায়তার প্রয়োজন হলে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
তুরস্কের মানুষের জন্য শোক ও সমবেদনা জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান।
ঢাকার কী হবে?
বাংলাদেশে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কাজ যে ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে, সে কথাও সংবাদ সম্মেলনে আসে।
তুরস্কের মত ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশে উদ্ধার তৎপরতা কীভাবে চালানো যাবে, সেই প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, “অনেকই বলছেন, যে কোনো সময় ঢাকা শহরে এমন ভূমিকম্প হতে পারে। এমন বিপর্যয় মোকাবেলায় আমরা বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
“অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা, জনবল প্রশিক্ষিত করাসহ প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল বাড়ানো হচ্ছে। সাথে সাথে আমাদের সাথে যারা এসব বিপর্যয়ে কাজ করবেন, যেমন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ বা অন্যান্য বিভাগ রয়েছে, তাদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।”
তবে সবকিছুর পরও অপরিকল্পিত নগরায়ন যে বড় ঝুঁকি তৈরি করে দিচ্ছে, সে কথাও বলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।
তিনি বলেন, “আমাদের জন্য সত্যিই একটা ঝুঁকি। পুরান ঢাকার মত যে জায়গাগুলো আছে, সেখানে আমরা হয়ত প্রশিক্ষিত জনবল থাকব, ইকুইপমেন্ট থাকবে, কিন্তু আমরা পৌঁছতে পারব কি?"
মহাপরিচালক বলেন, “আরেকটি বিষয় আমাদের একটু লক্ষ্য রাখা দরকার, আমাদের মাটির নিচে সুয়ারেজ সিস্টেম আছে, গ্যাস সিস্টেম আছে, ইলেক্ট্রিসিটি সিস্টেম আছে, যখন ভূমিকম্প হবে তখন এগুলোর কী হবে? এই আজকের সেবামূলক সিস্টেমগুলোই কিন্তু আমাদের জীবননাশের হুমকি হবে।
“এজন্য আমাদের কী করতে হবে? গ্যাস সিস্টেমে অটো… সিস্টেম থাকতে হবে, যদি একটা ঝাঁকুনি হয়, তাহলে সেটা অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে, যাতে অগ্নি দুর্ঘটনা না ঘটে।"
পুরনো খবর
তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্প: মৃত্যু ৯ হাজার ছাড়িয়েছে
তুরস্কে যাচ্ছে বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দল
ভূমিকম্পের ধ্বংসচিত্র: আগে এবং পরে