গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে এবার সড়কে শিক্ষার্থীরা
“আমরা যোগাযোগ করেছি, যাতে রাস্তাটা ছেড়ে দেয়। আমরা বলেছি জনভোগান্তি তৈরি না করতে।
রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেসাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবিতে এবার সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার সকাল থেকে তারা কলেজের সামনে অবস্থান নেয়, এতে আজিমপুর সড়কের দুপাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছাকে ছাড়াতে রাতে পুলিশ তাদের ওপর ‘লাঠি চার্জ করেছে এবং নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে’। এতে তাদের বেশ কয়েকজন ‘গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে’ বলেও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তবে শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার।
তিনি বলেছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের আহ্বানে কেবলমাত্র অধ্যক্ষকে উদ্ধারের জন্যই বৃহস্পতিবার রাতে ওই ক্যম্পাসে পুলিশ গিয়েছিল।
উপকমিশনার মোস্তাক বলেন, “আমরা মূলত প্রিন্সিপাল মহোদয়কে উনাকে উদ্ধার করার জন্য গিয়েছিলাম। সেখানে শুধুমাত্র আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। নারী পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে বুঝিয়েছে।”
পরে শিক্ষার্থীরা না মানলে ‘রেসকিউ অপারেশন’ চালিয়ে পুলিশ ওই অধ্যক্ষকে সুস্থ অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা যোগাযোগ করেছি, যাতে রাস্তাটা ছেড়ে দেয়। আমরা বলেছি জনভোগান্তি তৈরি না করতে। জন ভোগান্তি তৈরি করলে মানুষ আপনাদের প্রতি বিরক্ত মনোভাব পোষণ করবেন।
“আপনারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এটা আন্দোলন করেন। আপনারা স্মারকলিপি দিয়ে দিতে পারেন, লিখিতভাবে জানাইতে পারেন, এটা আমরা তাদেরকে জানিয়েছি।”
এর আগে বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ ও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধের রাতেও অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা।
লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন রাতে বলেছিন, অপসরণের দাবিতে সকাল থেকেই অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেসাকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান।
পরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ খবর পেয়ে কলেজের ভেতরে ঢুকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
এরপর ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘লাঠিচার্জের’ অভিযোগ তুলেন শিক্ষার্থীরা। জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ অধ্যক্ষ পদত্যাগের লিখিত পত্র না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
রাত ২টার পর শিক্ষার্থীদের পক্ষে তামান্না ইসলাম বলেন, দাবি আদায়ে সকাল ৮টা থেকে আবার কর্মসূচি পালন করবেন। শুক্রবারের নিয়োগ পরীক্ষার সময় আন্দোলন বন্ধ রাখবেন এবং পরীক্ষা শেষে আবার তা শুরু করবেন।
এর আগে শম্পা আখতার নামে এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ করে বলেন, “কলেজের অধ্যক্ষ একটা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের দুই ছাত্রীর সিট বাতিল করেছে। ঘটনা হচ্ছে, পূজার আগে একটা অনুষ্ঠান হয় অডিটোরিয়ামে। সেখানে আমরা সময়মত শেষ করতে পারিনি। তাই তিনি আমাদের দুজন শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করে।
“পরে আমরা মাফ চাইলে তিনি আমাদের কাছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা অডিটোরিয়ামের বিল দিতে বলেন। আমরা তো শিক্ষার্থী এত টাকা কোত্থেকে দেব? এজন্য আজকে আন্দোলন করেছি। রাতে তিনি আমাদের পুলিশ এনে পিটিয়েছেন।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক মেহেরুন্নেসা বলেছিলেন, “শিক্ষার্থীরা মিথ্যাচার করছে। তারা ১০টার প্রোগ্রাম ভোর ৫টায় শেষ করেছে। এজন্য তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি। তবে তারা যখন মাফ চেয়েছে, আমি তাদের ক্ষেত্রে নমনীয় হয়েছি।
“কিন্তু কলেজের তো কিছু রুলস আছে। তারা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, তার বিল তো দিতে হবে। আমার অপরাধ কোথায় বলেন?”
শিক্ষার্থীদের দাবি হল- শুক্রবার ক্যাম্পাসে সরকারি কোনো পরীক্ষা হবে না। ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘লাঠিচার্জ করা’ পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে। অধ্যক্ষ পদত্যাগের লিখিত পত্র না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী ‘হামলাকে’ বৈধতা দিয়েছে তাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা।
