২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সাবেক আইডিআরএ চেয়ারম্যান আসলাম আলমের সম্পদ খতিয়ে দেখছে দুদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে এ সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সাবেক আইডিআরএ চেয়ারম্যান আসলাম আলমের সম্পদ খতিয়ে দেখছে দুদক

এস আসলাম আলম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 09:34 PM

Updated : 29 Sep 2026, 09:34 PM

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-আইডিআরএর সাবেক চেয়ারম্যান ও সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব এম আসলাম আলমের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৭ সেপ্টেম্বর দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

মঙ্গলবার দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়াকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা করা হয়েছে। বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩ বিভাগের পরিচালককে করা হয়েছে তদারককারী কর্মকর্তা।

আসলাম আলমের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী বিধি অনুযায়ী যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

দুদকে সাবেক এই সিনিয়র সচিব তিন পাতার সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।

দুদকের আদেশে আসলাম আলমকে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সাবেক রেক্টর, সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) ‘বর্তমান চেয়ারম্যান’ বলা হয়েছে।

তবে আসলাম আলম এখন আইডিআরএর চেয়ারম্যান নন। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ২ মার্চ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ১৬ জুন মীর নাদিয়া নিভিনকে আইডিআরএর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় সরকার।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঢাকার ধানমন্ডিতে সচিব পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় আসলাম আলমের সম্পদের হিসাব চেয়েছিল দুদক।

২০২৫ সালের মে মাসে দুদক বলেছিল, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পে ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই প্রকল্পে সরকারি কোটায় বরাদ্দ দেওয়া ১২টি ফ্ল্যাটের একটি পেয়েছিলেন আসলাম আলম।

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে ‘জড়িত’ সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ‘পুরস্কৃত করতে’ এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

দুদক তখন বলেছিল, ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই ওই ১২টি ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য নিতে ওই বছরের ১৭, ১৮ ও ২১ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তাদের দুদকে ডাকা হয়। আসলাম আলম সরাসরি হাজির না হয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন।

অনুসন্ধানের পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি আসলাম আলমসহ ১০ জনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

আসলাম আলম ১৯৮২ সালের বিশেষ বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার মধ্যে ২০১৬ সালের মার্চে আসলাম আলমকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের পদ থেকে ওএসডি করা হয়। ওই বছরের অক্টোবরে তাকে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে আইডিআরএর চেয়ারম্যান করা হয়েছিল।