২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

নাইকো দুর্নীতি মামলায় ফের সাক্ষ্য দেবেন দুই কানাডিয়ান পুলিশ

বিচারক আগামী ১৭ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন রেখেছেন।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Nov 2023, 04:00 PM

Updated : 02 Nov 2023, 04:00 PM

নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে কানাডার দুই পুলিশ সদস্যের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও কানাডায় ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দাখিলের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।

আর এজন্য রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা কেবিন দুগ্গান ও লয়েড শোয়েপকে আদালতে হাজির হতে আবার সমন পাঠাবে আদালত।

দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এই আদেশ দেন।

দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে খালেদ জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বিচারক আগামী ১৭ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন রেখেছেন। এছাড়া মামলার অন্যতম আসামি শহিদুল ইসলামের পক্ষে এদিন বাদী দুদক কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমকে জেরার আবেদনও বৃহস্পতিবার বিচারক মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত সোমবার বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্য দেন রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের সদস্য লয়েড শোয়েপ ও কেবিন দুগ্গান। ওইদিন শোয়েপের সাক্ষ্য শেষ হলেও দুগ্গানের বক্তব্য শেষ হয়নি।

পরদিন মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ শোয়েপকে পুনরায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করার আবেদন করে। আবেদনে তারা বলেছিলেন, জবানবন্দিতে কিছু অংশ বাদ পড়ায় আবার তার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রয়োজন। আদালত ওই আবেদন শুনানির জন্য এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২ নভেম্বর দিন রেখেছিল।

এই মামলার প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কানাডা পুলিশ তাদের দেয়া সাক্ষ্যে খাণেদা জিয়ার নাম বলেননি।

এর আগে কানাডার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হাজির হতে গত ১৯ অক্টোবর সমান জারি করেন আদালত।

কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে ‘অস্বচ্ছ’ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল।

২০০৮ সালের ৫ মে ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে নাইকোর হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এদের মধ্যে তিন জন পলাতক।

জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন এই মামলায় আসামি ছিলেন। তারা মারা যাওয়ায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পুরনো খবর:

নাইকো দুর্নীতি: কানাডার এক পুলিশের সদস্যের সাক্ষ্য আবার নেওয়ার আবেদন
খালেদার নাইকো মামলা: সাক্ষ্য দিলেন কানাডা পুলিশের দুই সদস্য