খালেদার নাইকো মামলা: সাক্ষ্য দিলেন কানাডা পুলিশের দুই সদস্য

এদের মধ্যে লয়েড শোয়েপের সাক্ষ্য শেষ হলেও কেবিন দুগ্গান বক্তব্য শেষ হয়নি; এজন্য মঙ্গলবার তারিখ রেখেছেন বিচারক।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Oct 2023, 03:18 PM
Updated : 30 Oct 2023, 03:18 PM

তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন কানাডীয় পুলিশের দুই কর্মকর্তা।

সোমবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে সাক্ষ্য দেন রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের সদস্য লয়েড শোয়েপ ও কেবিন দুগ্গান।

এদের মধ্যে শোয়েপের সাক্ষ্য শেষ হলেও দুগ্গানের বক্তব্য শেষ হয়নি। মঙ্গলবার আবার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ রেখেছেন বিচারক।

বিএনপি নেত্রীর অন্যতম আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া জানান, জবানবন্দি ও জেরা মিলিয়ে শোয়েপের সাক্ষ্য চলে এক ঘণ্টা। দুগ্গান কথা বলেন ১৫ মিনিটের মতো।

সকাল ১১টার দিকে কানাডা থেকে আসা দুই সাক্ষী বিশেষ আদালতে আসেন। সাড়ে ১১টার দিকে সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন শোয়েপ। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ মূলতবি চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সময় আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তা নাকচ করে।

পরে কিছুটা সময় সাক্ষ্য গ্রহণ মূলতবি করে বিরতিতে যায় আদালত। এরপর দুগ্গান সাক্ষ্য শুরু করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল ছাড়াও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অংশ নেন।

বিএনপি নেত্রীর পক্ষে প্রথম সাক্ষীকে জেরা করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, এই দুই জনের সাক্ষ্যে খালেদা জিয়ার নাম আসেনি।

দুদকের আইনজীবী জানান, নাইকোকে বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রের কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে চুক্তি করেন কোম্পানিটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। তার মাধ্যমে ঘুষের টাকা কয়েকজনের হাত ঘুরে ঘুষের টাকা কীভাবে বাংলাদেশে আসে উঠে আসে কানাডীয় পুলিশের দুই সদস্যের বক্তব্যে।

বাংলাদেশে করা মামলায় বিদেশিদের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি বিরল। ২০১১ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলায় সাক্ষ্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লেপ্রেভোট্টি।

সেই মামলায় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ৭ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ কোটি টাকা জরিমানা করে হাই কোর্ট। পরে আরও বেশ কিছু মামলায় তার সাজা হয়েছে।

কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে ‘অস্বচ্ছ’ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল।

২০০৮ সালের ৫ মে ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে নাইকোর হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

এদের মধ্যে তিন জন পলাতক।

জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন এই মামলায় আসমি ছিলেন। তারা মারা যাওয়ায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির অব্যাহতি নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) এক কর্মকর্তা ও কানাডার রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত। গত ১৯ অক্টোবর কানাডীয় পুলিশের দুই সদস্যকে সাক্ষ্য দিতে সমন পাঠানো হয়।

২০১৮ সালে দুর্নীতির দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার ১৭ বছরের সাজা হয়েছে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা হয়েছে ১০ বছর, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজা হয়েছে ৭ বছর।

দুই বছর বন্দি থাকার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত হলে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি পান বিএনপি নেত্রী।

এরপর সরকার ছয় মাস করে সাময়িক মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে চলেছে।