২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বেনজীরের দুর্নীতির মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য

দুদকের এ মামলায় তার বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 07:11 PM

Updated : 28 Oct 2026, 07:11 PM

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে বুধবার তারা সাক্ষ্য দেন।

এ নিয়ে মামলাটিতে ৩৬ জনের মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রাখা হয়েছে বলে প্রসিকিউটর মীর আহাম্মদ আলী সালাম জানিয়েছেন।

বুধবার সাক্ষ্য দেওয়া ১২ জন হলেন- কমিউনিটি ব্যাংকের হেড অফিসের এফএভিপি মোহাম্মদ শাহরিয়ার চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের

এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান, প্রাইম টাওয়ারের এসইভিপি এবং হেড অব আইসিসিডি মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, এনআরবি ব্যাংকের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাস অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগের এসইভিপি উদয় শংকর চাকী, ইস্টার্ন ব্যাংকের অফিসার মো. ফয়সাল ভূঞা পিয়াস।

এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের অফিস সহায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল কবির, গণপূর্ত ই/এম বিভাগের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজেদুল ইসলাম, উপ প্রকৌশলী নাহিদ হাসান লিজন, ঢাকা বোট

ক্লাবের সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান তুষার এবং এসপিবিএনের ডিআইজি শোয়েব রিয়াজ আলম সাক্ষ্য দেন।

বেনজীরের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দেন হাফিজুল ইসলাম।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। যার মধ্যে ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত।

অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়, “বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।”

গত ৮ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।