২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সাম্য হত্যা মামলায় বাবার সাক্ষ্য

আগামী ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন দিয়েছে আদালত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 03:06 PM

Updated : 28 Oct 2026, 03:06 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় তার বাবা ফখরুল আলম আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সাক্ষ্যে তিনি বলেছেন, ‘ছুরিকাঘাতে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মৃতদেহ দেখতে পান’।

ঢকার ১৯ তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মমিনুল ইসলামের আদালতে সাক্ষ্য দেন ফখরুল আলম। তার সাক্ষ্য শেষে আগামী ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন দিয়েছে আদালত।

বেঞ্চ সহকারি আশরাফুল আমিন এ তথ্য দিয়েছেন।

ফখরুল আলম বলেন, “সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। ২০২৫ সালের ১৩ মে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে আমাদের কাছে ফোন আসে, আমার ছেলে সাম্যকে কিছু সন্ত্রাসী ছুরিকাঘাত করেছে। আমি দ্রুত সিএনজিতে করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে যাই। মর্গে আমার ছেলের মৃতদেহ দেখতে পাই।

“শুনি, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার ছেলে ও তার বন্ধু বায়েজিদ, রাফি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে যায়। সেখান থেকে খেয়ে ফেরার পথে রাত ১২ টা ৫ মিনিটের দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চের উত্কর পশ্চিম কোনায় পৌঁছালে কতিপয় সন্ত্রাসী আমার ছেলেকে ছুরিঘাত করে মেরে ফেলে।”

এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা শেষ করেন।

এ নিয়ে মামলায় তিন জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে জানিয়ে বেঞ্চ সহকারি আশরাফুল আমিন বলেন, গেল ৮ অগাস্ট মামলার বাদী সাম্যর বড় ভাই এস. এ এএম শরীফুল আলম এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সাম্যর সহপাঠী আশরাফুল আলম রাফি সাক্ষ্য দেন।

এর আগে গত ৩ মে সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

আসামিরা হলেন-মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন। এরা সবাই মাদক কারবারী।

এদের মধ্যে রাব্বি ও হৃদয় পলাতক রয়েছে। অপর আসামিরা জামিনে আছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় গত বছরের ১৩ মে রাত ১১টার ছুরিকাঘাতে আহত হন শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫)। রাত ১২টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বন্ধুরা সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাম্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়তেন। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।

এ ঘটনায় ১৪ মে সকালে সাম্যের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের ইন্সপেক্টর মো. আখতার মোর্শেদ গত বছরের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রি করতে নিষেধ করার কারণে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।