প্রথম আলোর সম্পাদককে গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ
কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে।
প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
শনিবার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল আটকে দেন। মতিউর রহমানের কুশপুতুলও দাহ করেন তারা।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামান সামিসহ কয়েকজন বক্তৃতাও করেন সেখানে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেসময় উপস্থিত হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।
স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনের জেরে গত বুধবার ভোররাতে সিআইডি পরিচয়ে ওই প্রতিবেদনের প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামসকে তার সাভারের বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়।
পরে ওই প্রতিবেদনে ‘মিথ্যা ও জাতির জন্য মানহানিকর’ তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ ও প্রচারের অভিযোগে সেই রাতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয় শামসের বিরুদ্ধে। পরে আরেকটি মামলা হয়, সেই মামলায় শামসের সঙ্গে প্রথম আলোর সম্পাদককেও আসামি করা হয়।
সেই মামলায় শামসকে কারাগারে পাঠানোর পর এখন মতিউর রহমানকেও গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
শনিবারের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ নেতা জামান সামি বলেন, “তারা (প্রথম আলো) সব সময়ই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এসব দেখে আমরা বসে থাকতে পারি না। আমরা এর বিচার চাই।”
শাহরিয়ার শহিদ শুভ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রথম আলো পাবলিক সেন্টিমেন্টকে ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত করতে গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের দাবি, প্রথম আলোর লাইসেন্স বাতিল ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা।”
সমাবেশে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী শাহ ইবনে সোয়াদ বলেন, “স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই কাজ করা হয়েছে। এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।”
তানভীর মাহতাব নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রথম আলো বারবার এ ধরনের মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। আমরা প্রথম আলোর এই মিথ্যা সংবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি। আমরা প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
এদিকে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মামলা এবং শামসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে সাংবাদিক শামসকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে আসছে।
এই প্রসঙ্গ ধরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ অবিলম্বে স্থগিত করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফোলকার টুর্ক।
