ভারত সফরে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

“মিয়ানমার থেকে যাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা সবসময় চেয়ে এসেছি। সুতরাং এ বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই আলোচিত হবে”, বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2024, 10:11 AM
Updated : 6 Feb 2024, 10:11 AM

বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এবং সীমান্তের বাংলাদেশিদের হতাহতের বিষয়গুলো নিয়ে ভারত সফরে আলোচনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে মঙ্গলবার রাতে নয়া দিল্লী যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে আলোচনার টেবিলে মিয়ানমার যুদ্ধ এবং বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি থাকবে কিনা, তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, “(ভারতের) পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

“যেহেতু মিয়ানমার ভারতেরও প্রতিবেশী রাষ্ট্র, আমাদেরও প্রতিবেশী রাষ্ট্র। মিয়ানমার থেকে যাদের (রোহিঙ্গা) জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা সবসময় চেয়ে এসেছি। সুতরাং এ বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই আলোচিত হবে।”

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধ চলছে গত কয়েকদিন ধরে। বিদ্রোহীরা বিজিপির কয়েকটি ফাঁড়ি দখল করে নিলে রোববার সকালে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১৪ সদস্য। এরপর তিন দিনে সেই সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ২২৯ জনে পৌঁছেছে।

এই ২২৯ জনের মধ্যে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), সেনাবাহিনী, ইমিগ্রেশন সদস্য, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সদস্য এবং কিছু বেসামরিক ব্যক্তিও রয়েছেন। তাদের নিরস্ত্র করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

মিয়ানমার থেকে আসা বেসামরিকদের বিষয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এখানে ক্যাম্পের মধ্যে বিজিপি (মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী) সদস্য যারা ফ্যামিলিসহ থাকত, তারা এসছে। এর বাইরে কেউ আসেনি।” 

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রাখাইনের বেশ কিছু চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষের মিয়ানমার- বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় জড়ো হওয়ার তথ্য দিয়েছেন এপারে থাকা তাদের স্বজনরা।

ফলে নতুন করে মিয়ানমারের বেসামরিক নাগরিকদেরও অনুপ্রবেশ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

রাখাইনে সেনা ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের প্রভাব পড়ছে সীমান্তের এপারের জনগোষ্ঠীর মধ্যেও। আতঙ্কে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থাকছেন।

সোমবার দুপুরে মিয়ানমার থেকে আসা গোলায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী এলাকায় নারীসহ দুজন নিহত হন। এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজকে আমরা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। এটা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য, সেটা আমরা জানিয়েছি। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত তার সরকারের কাছে আমাদের এই কড়া প্রতিবাদের বার্তাটা পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন।”

সম্প্রতি মিয়ানমারের যারা বাংলাদেশে এসেছে, তাদের আকাশপথের পাশাপাশি নৌরুটেও ফেরানোর আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “তারা তাদের নাগরিকদের নিয়ে যাবে, এই মর্মে তারা আমাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় আছে। কীভাবে নিয়ে যাবে- এখন পর্যন্ত তারা প্রেফার করছে নৌরুটে।”

ভারত সফরে দিল্লীর পাশাপাশি কলকাতাতেও কর্মসূচি রয়েছে হাছান মাহমুদের। শুক্রবার কলকাতা হয়ে ঢাকায় ফিরবেন তিনি।