ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের আশ্বাস, ইশতিয়াকের প্রতিবাদ স্থগিত

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর বলেছে, ইশতিয়াকের লিখিত অভিযোগ পেলে তারা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 August 2022, 01:59 PM
Updated : 1 August 2022, 01:59 PM

পুরো দাম নিয়েও পরিমাণে কম ‘অকটেন’ দেওয়ার অভিযোগে তেলের পাম্পে অবস্থান নেওয়া তরুণ ব্যাংক কর্মী শেখ ইশতিয়াক ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের আশ্বাসে প্রতিবাদ স্থগিত করেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের একজন পরিচালক আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে বসবেন। তাই আজকের মত চলে এসেছি।”

মঙ্গলবার আবার দক্ষিণ কল্যাণপুর সোহরাব সার্ভিস স্টেশনে দাঁড়াবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আলোচনার উপর নির্ভর করে। উনারা কী ব্যবস্থা নেন, দেখি।”

দারুস সালাম থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর বিকাল ৫টার দিকে ওিই তেলের পাম্প ছেড়ে যান ইশতিয়াক।

ইস্টার্ন ব্যাংকের চাকুরে এই তরুণ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কল্যাণপুর সোহরাব সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে ৫০০ টাকার অকটেন নেন।

পাম্প থেকে ৫০০ টাকার ভাউচার দেওয়া হলেও ওই পরিমাণ তেল তাকে দেওয়া হয়নি বলে ইশতিয়াকের অভিযোগ। তিনি মোটরসাইকেল থেকে তেল বের করে মাপার কথা বললেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি।

এর প্রতিবাদে তিনি একটি সাদা কাগজে ‘সঠিক পরিমাণে তেল চাই’ লিখে ওই পাম্পের সামনে অবস্থান নেন।

ইশতিয়াক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি ৫০০ টাকার তেল চাইলে যে পরিমাণ দিয়েছে, তা আমার কাছে ৩০০ টাকার মনে হয়েছে।

"আমি তাদের কাছে বললাম, আমার ৫০০ টাকার তেল বুঝিয়ে দেন। তখন তারা গাড়িতে আরও তেল ঢুকাতে চাইল। বলতে শুরু করল ভুল হয়েছে।“

ইশতিয়াকের ভাষ্য, এটা ওই কর্মচারীদের ভুল নয়, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ তারা এমন করেছে এবং এভাবে অনেককে ‘ঠকানো’ হয় বলে তার সন্দেহ। আর সে কারণেই তিনি প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছেন।

সোহরাব সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার বেলায়েত হোসেন অবশ্য ঘটনার একটি ভিন্ন বর্ণনা দিচ্ছেন। তার ভাষায়, এটা নিছক ‘ভুল বোঝাবুঝি’।

“যিনি তেল কিনতে এসছিলেন তার মাথায় হেলমেট ছিল। উনি ৫০০ টাকার তেল চাইলে পাম্পের কর্মী ২০০ টাকা শুনেছেন। কিন্তু মেশিনে ২০০ টাকার জায়গায় ভুলবশতঃ একটি শূণ্য না টিপে ২০ টাকার তেল দেন।

“যিনি তেল কিনতে এসেছিলেন, তিনি ২০০ টাকার নয়, ৫০০ টাকার কথা বললে আবারও ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হয়।”

বেলায়েত বলেন, “এরপর উনি চলে যাওয়ার সময় আমাদের কর্মী দেখে, ওই ক্রেতা আরো ১৮০ টাকার তেল পাবেন। এরপর তাকে বাকি টাকার তেল নিতে বলা হলে তিনি না নিয়ে কম দিয়েছি বলে প্রতিবাদ করেন।”

কর্মীদের অসতর্কতায় মাঝেমধ্যে এরকম সমস্যা হয় দাবি করে তিনি বলেন, “প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার বার মেশিনের বোতাম টিপতে হয়। কোন সময় কেউ ১০০ টাকার তেল চাইলে ১ এর উপর ডাবল চাপ পড়ে ১১০০ টাকার তেলও চলে যায়। এতে অনেক সময় পাম্পের ক্ষতি হয়।”

মেশিনে কোনো ‘ত্রুটি নেই’ দাবি করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বেলায়েত বলেন, “যে কোনোভাবে পরীক্ষা করা হোক না কেন, কোনো ত্রুটি পাবে না। তেল কম দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।”

তিনি এমন দাবি করলেও সোহরাব সার্ভিস স্টেশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। সরকারের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই গতবছর জানুয়ারি মাসে ওই পাম্প কর্তৃপক্ষকে জরিমানাও করেছিল।

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইশতিয়াককে বলেছি, অফিসে এসে যেন একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“কোনো ভোক্তা প্রতারিত হলে সঠিক পন্থায় এসে অভিযোগ দিলেই তো আমরা রেসপন্স করি। সুতরাং সবাই লিখিত অভিযোগ দিক।”

ইশতিয়াকের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সোহরাব সার্ভিস স্টেশনের নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও কেউ ধরেননি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক