খালিদী ছিলেন একজন সাহসী কণ্ঠস্বর: বিচারপতি সাইফুর রহমান
“বন্ধু, ভালো থেক, শান্তিতে থেক। বিদায় হে বন্ধু।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে একজন ‘বুদ্ধিদীপ্ত ও মেধাবী মানুষ’ বর্ণনা করে তার বন্ধু বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান বলেন, তিনি ছিলেন ‘সাহসী কণ্ঠস্বর’।
বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসের খেলার মাঠে শনিবার দুপুরে তৌফিক ইমরোজ খালিদী প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কথা বলছিলেন তিনি।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী এবং আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী।
বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণে আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান বলেন, “আমি আইন বিভাগে আর সে ইংরেজি বিভাগে পড়ত। আমরা দুজনই সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই আমাদের অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিক সম্পর্ক ছিল।”
বন্ধুকে নিয়ে তার ভাষ্য, “তৌফিক অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও বন্ধুবৎসল একজন মানুষ ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে পেশাগত জীবনে প্রবেশের দীর্ঘ ১২ বছর পর আমি যখন ইংল্যান্ডে ব্যারিস্টারি পড়তে যাই, তখন সেখানে আবার বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়।
“একদিন রাস্তায় হাঁটছিলাম, হঠাৎ পেছন থেকে এসে তৌফিক আমার হাত ধরল। আমি চমকে উঠেছিলাম। সেই দেখা হওয়ার পর থেকে আমাদের আর বিচ্ছেদ ছিল না। ইংল্যান্ডে টানা পাঁচ বছর আমরা একসঙ্গে ছিলাম। এমন কোনো দিন ছিল না, যেদিন তৌফিকের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়নি।”
কথায় কথায় পুরনো দিনে ফিরে দিয়ে আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান বলেন, “একদিন সে আমাকে তার কর্মস্থল বুশ হাউসে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে সে সংবাদ পড়ছিল, আর আমি বসে বসে তা দেখছিলাম। তৌফিক শুধু বাংলাদেশের নয়, আমার বিবেচনায় বাংলাদেশ ও ভারতের সাংবাদিকদের মধ্যেও অন্যতম একজন। সে ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও মেধাবী মানুষ। যেকোনো আড্ডায় সে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি দিয়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখত।
“সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। সে ছিল অত্যন্ত দেশপ্রেমিক একজন মানুষ। দেশকে নিয়ে সবসময় ভাবত, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলত।
“তৌফিক ছিল একজন সাহসী কণ্ঠস্বর। সে আমার অসম্ভব প্রিয় বন্ধু ছিল। আজ তাকে স্মরণ করতে গিয়ে আর কিছু বলার নেই।”
“বন্ধু, ভালো থেক, শান্তিতে থেক। বিদায় হে বন্ধু।”
বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসের খেলার মাঠে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সাংবাদিক খালিদীকে শেষ বিদায় জানান তার বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। এরপর খেলার মাঠে তার জানাজা হয়।
শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিকাল ৫টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হন সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে খালিদীর জানাজা হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
এরপর কফিন নেওয়া হয় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রিয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিস প্রাঙ্গণে। সেখানে মরদেহ রাখা হয় দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।
এরপর সাংবাদিক খালিদীর মরদেহ নেওয়া হয় তার বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবার তাকে দেখেন।
