প্রমাণ হয়নি ডিবির জাল নোটের মামলা, ২ আসামি খালাস

“আসামিপক্ষ ঘটনার ভিডিও দাখিল করেছিল আদালতে। সেখানে টাকা উদ্ধারের কিছু ছিল না, ধস্তাধস্তির ঘটনা আছে,” বলছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Jan 2023, 02:48 PM
Updated : 24 Jan 2023, 02:48 PM

ছয় বছর আগে ২৫ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধারের অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের করা এক মামলা প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ১৫ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক তেহসিন ইফতেখার এ রায় ঘোষণা করেন।

খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- পল্টনের ‘হোটেল বন্ধু’র ব্যবস্থাপক হাসান মজুমদার ও বাবুর্চি সোহেল রানা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর মাহবুবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আসামিপক্ষ ঘটনার ভিডিও দাখিল করেছিল আদালতে। সেখানে টাকা উদ্ধারের কিছু ছিল না, ধস্তাধস্তির ঘটনা আছে।

“তাছাড়া আসামিপক্ষ পুলিশ সদর দপ্তরে একটি আবেদন করেছিল, সেটিও আদালতে উপস্থাপিত হয়েছিল। সব মিলিয়ে মামলাটি প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন।”

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার বাদী ডিবি পরিদর্শক তপন কুমার ঢালীর নেতৃত্বে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার ফকিরাপুল থেকে হাসান মজুমদার ও সোহেল রানাকে আটক করা হয়। তাদের শরীর তল্লাশিকালে হাতে থাকা ব্যাগ থেকে ২৫ লাখ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ মামলায় আসামিদের ২ দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাঁচ মাস জেলহাজতে থাকার পর হাই কোর্ট থেকে তারা জামিন পান।

২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই দেওয়ান উজ্বল হোসেন। পরে মামলাটি বিচারে আসে।

খালাস পাওয়ার পর ‘হোটেল বন্ধু’র ব্যবস্থাপক হাসান মজুমদার বলেন, “২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর দুপুরে ‘হোটেল বন্ধু’র তৃতীয় তলায় ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক তপন কুমার ঢালী ও এসআই দেওয়ান উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একটি টিম প্রবেশ করেন। তারা হোটেলের কাউন্টারে বাবুর্চি সোহেল রানাকে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। আমি কারণ জানতে চাইলে আমাকেও হাতকড়া পরিয়ে দেয়।

“এরপর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় আরেকটি কক্ষে ডেকে নিয়ে বলে, টাকা না দিলে জাল টাকার মামলা দেওয়া হবে। ওই দিন রাতেই মতিঝিল থানায় ২৫ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করে।”

এ ঘটনার পর পরিবারের তরফে পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয় জানিয়ে হাসান মজুমদার বলেন, “পুলিশ সদর দপ্তরের সিকিউরিটি সেলের এএসপি ওমর ফারুক ঘটনাটি তদন্ত করে মিথ্যা মামলা দায়েরের সত্যতা পান। তদন্ত রিপোর্টে মতিঝিল জোনাল টিমের পুলিশ সদস্যদের দায়ী করা হয়। ৫ মাস ২৭ দিন পর ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল আমরা জামিন পাই।

“জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবার ডিবি অফিসে ডেকে নিয়ে আইজিপির কাছে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রত্যাহার না কারায় আমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।“

হাসান মজুমদার বলেন, “আমাদেরকে পুরানা পল্টনের হোটেল কাউন্টার থেকে তুলে আনা হলেও মামলায় দেখানো হয়- ফকিরাপুলের পশ্চিম পাশের গলি থেকে আমাদের জাল টাকাসহ আটক করে। তাই এ মামলায় আমরা আদালতে ভিডিও ফুটেজ দাখিল করেছি। আদালতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আমাদের খালাস দিয়েছেন।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক