হাদি হত্যার আসামি ফয়সালের বিরুদ্ধে ২ মামলা করবে দুদক
ফয়সালের স্ত্রীর কাছে ৬৫ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কমিশন।
ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
একটি মামলা হবে জাল টেন্ডারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে; আরেকটিতে আনা হবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীনের কাছে ৬৫ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কমিশন।
সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এসে এসব সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
দুদকের অভিযোগ, জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে দুটি কোম্পানিকে জয়েন্ট ভেঞ্চারে যুক্ত করা হয়। ওই টেন্ডারে অংশ নেওয়ার কথা বলে টেন্ডার সিকিউরিটি হিসেবে ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পে-অর্ডার নেওয়া হয়। পরে জাল ও বানোয়াট ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাবের মাধ্যমে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের অভিযোগ।
দুদক বলেছে, জাল দরপত্রের মাধ্যমে ‘ইনডিড ক্লাউড বিডির’ হিসাব থেকে অর্থ প্রথমে ফয়সালের মালিকানাধীন ‘এপল সফট আইটির’ হিসাবে নেওয়া হয়। সেখান থেকে টাকা ফয়সালের নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার নামে একই ব্যাংকের বেনারশী-পল্লী উপশাখায় এফডিআর করা হয়।
এ ঘটনায় ফয়সাল, মিডল্যান্ড ব্যাংকের রূপনগর উপশাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম, রিলেশনশিপ অফিসার মো. সারোয়ার হোসেন এবং ফয়সালের স্ত্রী সামিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আরেকটি মামলার অভিযোগের বিষয়ে দুদক বলেছে, ফয়সাল করিম ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের বাইরে অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন।
অন্যদিকে ফয়সালের স্ত্রী সামিয়ার নামে ৬৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা বলেছে দুদক। এজন্য কমিশন আইনের ২৬(১) ধারায় তাকে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শরীফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পান। পরে তিনি সংগঠনটির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হাদি হত্যা মামলায় ফয়সালকে প্রধান আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি ‘অস্বাভাবিক লেনদেনের’ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিল সিআইডি।
গত ৩১ আগস্ট দুদকের আবেদনে ফয়সাল ও তার স্ত্রী সামিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। ওই আবেদনে ১২৭ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল দুদক।
গত মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। ফয়সাল বর্তমানে ভারতে আটক আছেন।
