Published : 15 Sep 2026, 01:50 PM
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্যের বিষয়ে কোনো পাল্টা মন্তব্য করতে রাজি নন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
চলতি বছরের ১২ নভেম্বর থেতে সাত ধাপে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়ে দেন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মঙ্গলবার বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার ‘কিছুই জানে না’।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেছেন, “প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।”
কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সোমবার ভোটের তারিখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, চূড়ান্ত নয়। আন্তমন্ত্রণালয়ন সভা আছে ১৭ সেপ্টেম্বর, সেখানে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
জানেন না প্রতিমন্ত্রী
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তারিখ জেনেছেন।
তিনি বলেন, “আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।”
প্রতিমন্ত্রীর কথায়, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।
ইসি সচিব যা বললেন
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে একজন নির্বাচন কমিশনার সোমবার ব্রিফিং করেছেন।
স্থানীয় নির্বাচন হবে এটি নিশ্চিত। তবে নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে গত দুই দিন ধরে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি প্রাথমিক সময়সূচি করা হয়েছে।
“সেখানে পাঁচটি ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ধাপ রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক হবে। শিক্ষামন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট নেওয়া হবে। এরপর এসব মতামতের ভিত্তিতে কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।”
নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কী না প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, “আলোচনা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া। কার সঙ্গে কখন, কীভাবে আলোচনা হয়েছে, এ বিষয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনো মন্তব্য নেই।”
ইসি সচিব বলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় সভায় বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর কমিশন এ বিষয়ে বাড়তি তথ্য জানাবে।
আরও পড়ুন: