দাম্মাম হয়ে দেশে ফিরল দোহায় জরুরি অবতরণ করা বিমানের ফ্লাইট
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার কারণে পাঁচ দিনে ৫১ ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সৌদি আরবের দাম্মামের পথে উড়াল দিয়ে কাতারের দোহায় জরুরি অবতরণ করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইট দাম্মাম হয়ে নিরাপদে দেশে ফিরেছে।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একথা জানিয়েছে।
ঢাকা থেকে রোববার সন্ধা ৭টা ৩৬ মিনিটে দাম্মামের পথে যাত্রা করে বিজি-৩৪৯ ফ্লাইট। মাঝপথে দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধের খবরে সেটি দোহায় নামে। এরপর দোহা থেকে সেটি দাম্মামে পৌঁছায়। সেখান থেকে উড়োজাহাজটি সোমবার ঢাকায় পৌঁছেছে।
ঢাকা থেকে বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি দাম্মাম গিয়ে বিজি-৩৫০ হয়ে ঢাকায় চলাচল করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বলেছে, ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর সময় বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। পরে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা আসে।
এ অবস্থায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট পরিচালনার স্বার্থে বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২৭মিনিটে দোহা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর দাম্মাম বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলে ফ্লাইটটি সোমবার সকাল ৭টা ২মিনিটে দাম্মামে পৌঁছায়।
এরপর ফিরতি ফ্লাইট বিজি-৩৫০ বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে দাম্মাম থেকে ঢাকার পথে রওনা দেয়। দুপুর ২টা ৫৩ মিনিটে ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সবমিলিয়ে ৭ ঘণ্টা ৯ মিনিট বিলম্বের পর ফ্লাইটটি দেশে পৌঁছায় বলে বিমান জানিয়েছে।
অপরদিকে ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সোমবার ও মঙ্গলবারের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার কারণে শনিবার থেকে ১০ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৫১ ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
১০ অক্টোবর রিয়াদে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ হয়। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন, আহত হন ৩০৮ জন।
নিহত অন্যদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন এবং ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
এ ঘটনার রেশ না কাটতেই রোববার ফের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করে হুতিরা। তাতে এক প্রবাসী পাকিস্তানি নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১১ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
হুতিরা জানিয়েছে, তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরটিকে নিশানা করেছে।
গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেন, পূর্ব সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে।
পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের সব বিমানবন্দরই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু বলে সতর্ক করেছেন ইয়াহিয়া সারি।
