Published : 25 Aug 2026, 03:55 PM
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার কাছে সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিস পাঠাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুজনই এখন কারাগারে থাকায় বাসার ঠিকানায় নোটিস পৌঁছানো যায়নি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কারাগারের জেল সুপারের মাধ্যমে আদেশ পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
রোববার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আগের কমিশন তাদের সম্পদ বিবরণী নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছিল। সে অনুযায়ী তাদের ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়। পরে দুদক জানতে পারে, তারা অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এ কারণে এখন সংশ্লিষ্ট জেল সুপারের মাধ্যমে তাদের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পাঠানো হচ্ছে।
দুদকের নথি বলছে, আদেশ পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের নিজেদের পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দিতে হবে। একই সঙ্গে দায়দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ কীভাবে অর্জন করা হয়েছে, তার বিস্তারিতও দিতে বলা হয়েছে।
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, শাকিল আহমেদ বর্তমানে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। তার কাছে সম্পদ বিবরণীর আদেশ পৌঁছাতে ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের মাধ্যমে তা জারি করা হবে।
ফারজানা রূপা মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকায় তার আদেশ পৌঁছানো হবে সেখানকার জেল সুপারের মাধ্যমে।
এর আগে দুদকের কনস্টেবল মো. জুয়েল মিয়া তাদের ঠিকানায় গিয়ে কাউকে না পেয়ে আদেশপত্র ও সম্পদ বিবরণীর মূল ফরম ফেরত দেন বলে নথিতে বলা হয়েছে।
কী অভিযোগ দুদকের
শাকিল আহমেদের উদ্দেশে দেওয়া দুদকের আদেশে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে কমিশনের ‘স্থির বিশ্বাস’ হয়েছে যে তিনি জ্ঞাত আয়ের বাইরে নিজের নামে বা বেনামে ‘বিপুল পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তির’ মালিক হয়েছেন। ফারজানা রূপার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারার ক্ষমতাবলে তাদের সম্পদ বিবরণী দিতে বলা হয়েছে।
দুদকের আদেশে শাকিলকে নিজের, স্ত্রীর এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। রূপাকে নিজের, স্বামীর এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দিতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দিলে দুদক আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন উপপরিচালক মেফতাহুল জান্নাত এবং সদস্য সহকারী পরিচালক মো. কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে
একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে ২০২৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। পরে উত্তরা পূর্ব থানার একটি হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ওই মামলায় পরের দিন তাদের চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। পরে আদাবর থানায় পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায়ও তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড হয়। ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
২০২৬ সালের ১১ মে হাই কোর্ট ফারজানা রূপাকে ছয়টি এবং শাকিল আহমেদকে পাঁচটি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। তবে প্রত্যেকের আরও একটি মামলায় জামিন না হওয়ায় তখন তারা মুক্তি পাননি। পরে ৭ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি তাদের ওই জামিনের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে জামিন প্রশ্নে হাই কোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।
একাত্তর টেলিভিশন ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট শাকিল ও রূপাকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল।