Published : 25 Aug 2026, 02:43 PM
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ছাড়া সরকার বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার মানসিকতা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা, হামলা ও কনসার্ট বাতিলের বিষয়টিকে কোনো ধরনের সরকারি বা নীতিগত বিধিনিষেধ হিসেবে দেখছেন না তিনি।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলছিলেন তথ্যমন্ত্রী।
কনসার্ট বাতিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, “নট নেসেসারিলি। আপনার কথাটা যে কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই, যে সরকার সহযোগিতা করে নাই, তা না। হতে পারে সেখানে সিকিউরিটি ইস্যু ছিল, আরও অনেক কিছু ছিল, সেটা আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে জানতে পারব।”
দেশে বড় বড় কনসার্ট হচ্ছে বলেও দাবি করেন তথ্যমন্ত্রী।
“পার্টিকুলারলি কোনো জায়গাতে যদি আমরা এরকম অ্যাপ্রিহেনশন করি যে এরকম কথা থাকে, তো সিকিউরিটি ইস্যুতে হতে পারে। বাট আমাদের সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে কোনো কালচারাল কোনো ব্যাপারে কোনো বাধা বা বিঘ্ন বা এই ধরনের কোনো কিছু। আমরা এই ধরনের চিন্তা শেয়ার করি না।”
সংস্কৃতির ওপর আঘাত বা বাধা দেওয়ার প্রবণতাকে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠীর ‘ওভারঅ্যাক্টিং’ হিসেবে বর্ণনা করেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ কীভাবে মানুষের পাশে থাকতে হয় তা জানে। কিছু কিছু মানুষ এরকম ওভারঅ্যাক্ট করে। ইট ইজ ওকে, ইনশাআল্লাহ্ আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে অ্যান্ড উই উইল টেক কেয়ার অব ইট।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, “৩৬ হাজার ওয়ার্ডেই কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো পেটি ক্রাইম হচ্ছে। আপনি যদি সবটাই পত্রিকার পাতায় নিয়ে আসেন, তাহলে তো মানুষ মনে করবে এ দেশে কোনো মানুষ বাস করতে পারছে না।
“তো আমাদেরও যেমন দায়িত্ব, অবশ্যই আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন বস্তুনিষ্ঠ, সেটা কোনো কিছু না। তবে এটা মাথায় রাখবেন যে, এটা কোনো স্বাভাবিক সময় আমরা সরকারের দায়িত্বে আসি নাই।”
এছাড়া দীর্ঘ ১৭ বছরের পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিকভাবেই এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গেল ১৯ অগাস্ট উচ্চস্বরে গান চলাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা ছাত্রদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ-শিক্ষার্থীসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা ছিল। পরে দুই পক্ষের আলোচনা শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এই সরকারের সময়ে ড্রামাটিক ডেভেলপমেন্ট হয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাহেদ উর রহমান কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে বলেন, “৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ যে জায়গায় চলে গিয়েছিল, এই সরকারের সময়ে—শুধু সিগনিফিকেন্ট বললে কম বলা হয়—ড্রামাটিক ডেভেলপমেন্ট হয়েছে।”
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে কোনো অচলাবস্থা খুব দ্রুত কাটিয়ে ওঠার আশ্বাস দিয়ে উপদেষ্টা যোগ করেন, “সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়ানো, সেটা ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মত মনোযোগী, আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কখনো পেয়েছে কিনা—আই অ্যাম ইন ডাউট! সো, আমরা এটুকু বলি, যতটুকু হয়েছে, আমরা আশা করি এগুলো খুব দ্রুতই আমরা ঠিক করতে পারব।”
পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় মাধ্যমগুলোতে (বিটিভি ও সংসদ টিভি) শুধু সরকারি খবরের একচেটিয়া প্রচার বন্ধ করে বিরোধী দলগুলোর সংবাদের আনুপাতিক কভারেজ নিশ্চিতের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারির কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।