নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম‌: এমপিপত্নীর কাণ্ডের বিচার দাবি টিআইবির

জনপ্রতিনিধি ও তাদের স্বজনদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে দ্রুত ‘সংসদ সদস্য আচরণ আইন’ প্রণয়ণের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Feb 2024, 03:45 PM
Updated : 4 Feb 2024, 03:45 PM

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে বগুড়ার একজন সংসদ সদস্যের মেয়ে আটক হওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবি। 

সংস্থাটি বলছে, এ ঘটনা জনপ্রতিনিধি ও তাদের স্বজনদের ক্ষমতার অপব্যবহারকে স্বাভাবিকীকরণের একটি নিয়মিত উদাহরণ। 

জনপ্রতিনিধি ও তাদের স্বজনদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে দ্রুত ‘সংসদ সদস্য আচরণ আইন’ প্রণয়ণের দাবি জানিয়েছে টিআইবি। 

শুক্রবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা চলাকালে বগুড়ার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ১৯ জনকে পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। 

বগুড়া পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট কেন্দ্র থেকে আটক করা হয় উম্মে হামিদাকে। তিনি বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর সৎমেয়ে। হামিদার মা শিল্পী বেগম জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। 

হামিদাকে আটকের পর ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হলে শিল্পী বেগমও সেখানে যান এবং মেয়েকে ছাড়িয়ে আনেন।

একে হতাশাজনক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষমতাকাঠামোর সর্বস্তরে জনপ্রতিনিধি ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা ক্ষমতার অপব্যবহারকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করে তোলার যে চেষ্টা করছেন- এটি তারই উদাহরণ। আইন সবার জন্য সমান হওয়ার কথা থাকলেও, এ ঘটনা প্রমাণ করে দেশে ক্ষমতাশালীরা চাইলেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখাতে পারেন; কেননা একই মামলায় আটক অন্য অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।” 

এ ঘটনায় ধাপে ধাপে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যায় করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি প্রথম অপরাধ। এরপর অভিযুক্তকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে অভিযুক্ত মেয়েকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংসদ সদস্যের স্ত্রী একদিকে যেমন পরীক্ষায় জালিয়াতি করাকে অন্যায় সমর্থন যুগিয়েছেন, তেমনি প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করায় সমানভাবে অপরাধী। 

“অন্যদিকে, সংসদ সদস্যের স্ত্রীর হস্তক্ষেপ মেনে নিয়ে আইনবহির্ভূতভাবে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়ার সাথে জড়িতরাও একইমাত্রায় আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাই এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”