১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হুজাইফার মাথার গুলি এখনই বের করা যাচ্ছে না: চিকিৎসক

“তার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,” বলেন নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক বদরুল আলম।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jan 2026, 09:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফা আফনানের মাথা থেকে এই মুহূর্তে গুলি বের করার ঝুঁকি নিতে চাইছে না চিকিৎসকেরা।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক বদরুল আলম বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “যে অবস্থায় তাকে আনা হয়েছে, তার কোনো অবনতি হয়নি। তবে উন্নতির আশা আছে।

“শিশুটির জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছে, এই মুহূর্তে মাথায় থাকা গুলিটি বের করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে আবার স্ট্রোকও করেছিল।”

চট্টগ্রাম থেকে মঙ্গলবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয় হুজাইফাকে।

নয় বছরের হুজাইফা টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। রোববার সকালে দাদার সঙ্গে নাস্তা আনতে গিয়ে মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে আহত সে হয়।

টেকনাফ থেকে সেদিন তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন চাচা শওকত আলী। রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসকরা মাথায় অস্ত্রোপচার করলেও গুলি বের করতে পারেননি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা হুজাইফার মস্তিষ্কের ‘চাপ কমাতে’ তার মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখার কথা বলেছিলেন সেখানকার আইসিইউ বিভাগের প্রধান হারুনুর রশীদ।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার রাতেই শিশুটিকে ঢাকায় এনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটের অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ হাসপাতালটির যুগ্ম পরিচালক বদরুল আলম বলেন, “তার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক হলে সম্ভাবনার বিষয়টি বলা মুশকিল ছিল। আমরা হুজাইফার মাথার খুলিটি আলাদা করেই রেখেছি।”

নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউটে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

এদিকে হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানানো হয়েছে প্রতিবাদও।

ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়েকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশের দিকে অতর্কিত গুলি ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের প্রতিবন্ধক’।

এ ঘটনার মিয়ানমারকে সম্পূর্ণ দায় নিতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত গুলি বন্ধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে বলেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও তার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যা কিছু ঘটুক না কেন, তাতে বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেও বলেছে বাংলাদেশ।

এ ধরনের ঘটনা বন্ধে তার সরকার উদ্যোগ নেবে বলে ‘আশ্বস্ত করেছেন’ মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত। শিশু হুজাইফা ও তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন তিনি।