Published : 27 Feb 2026, 05:45 PM
ঢাকার রায়েরবাজার এলাকায় স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি হত্যা মামলার আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার এসআই মো. মতিউর রহমান ১৯ বছর বয়সী আসামি সিয়াজ হোসেন ইমনকে আদালতে হাজির করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দি নথিবদ্ধ করার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার।
বুধবার রাত ৯টার দিকে হাজারীবাগ থানার রায়েরবাজার এলাকায় বাসার সামনে ১৪ বছর বয়সী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় মামলা করেন তার বাবা বিল্লাল হোসেন। মামলার একমাত্র আসামি সিয়ামকে বৃহস্পতিবার সকালে কলাবাগান এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, রক্ত মাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট জব্দ করার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার আদালতে হাজির করার পর তদন্ত কর্মকর্তা আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য যে আবেদন করেন, তাতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর আসামি ঘটনার বর্ণনা করাসহ নিজের দোষ স্বীকার করায় এবং তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও গায়ের রক্ত মাখা জামা উদ্ধার হওয়ায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিবদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।
তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান আবেদনে বলেছেন, ২০২৩ সালে সিয়াম আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় একই শ্রেণির ছাত্রী বিন্তির সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। তবে পরে সিয়ামের সন্দেহ হয় যে বিন্তি অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এ নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে তাদের মধ্যে প্রায় আট মাস সম্পর্ক ছিল না। গত বছর বিন্তির সাথে আবার যোগাযোগ হলেও তার সন্দেহ দূর হয়নি।
তদন্তের বরাতে এসআই মতিউর বলেন, এই সন্দেহের কারণে আসামি বুধবার বিন্তির সঙ্গে দেখা করতে যান সিয়াম এবং তার আগে ট্যানারি মোড় থেকে চাকু কেনেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিয়াম দেখা করার জন্য বিন্তিকে রায়েরবাজার হাইস্কুলের সামনে ডাকেন। মেয়েটি আসার পর তারা রিকশায় করে বাংলামোটর এলাকায় যায় এবং সেখান থেকে আবার রায়েরবাজার হাইস্কুলের সামনে আসে। পরে বিন্তির বাসার কাছের ঘোরাফেরা করার সময়ে দুজনের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এ সময় অন্য কারো সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বিন্তি।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সিয়াম হঠাৎ বিন্তিকে ঝাপটে ধরে পেটে ও পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। পরে কাঁঠালবাগানে তার দাদার বাসায় চলে বাসায় যান। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।