Published : 21 Jan 2026, 03:53 PM
বাংলাদেশে কর্মরত এক পাকিস্তানি নাগরিকের আত্মহত্যার হুমকিতে গভীর রাতে পুলিশকে ছুটে যেতে হয়েছিল তার বাসায়।
বাংলাদেশি স্ত্রীর সঙ্গে ‘পারিবারিক বিরোধের’ জেরে ওই পাকিস্তানি নাগরিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন দিলে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ছুটে যায় তার উত্তরার বাসায়। পরে স্বজনদের উপস্থিতিতে মিমাংসাও করে দেন ওই পুলিশ সদস্যরা।
বুধবার দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান হয়। তবে ওই পাকিস্তানি নাগরিকের নাম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় মঙ্গলবার রাত ১২টার পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন। সে সময় তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে ‘আত্মহত্যা করবেন’ বলে জানায়।
ওই ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বলেন, তিনি একজন পাকিস্তানি নাগরিক। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। চার বছর আগে বাংলাদেশি এক নারীকে তিনি বিয়ে করেছেন এবং তাদের দুটি সন্তান আছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই পাকিস্তানি নাগরিক বলেন, তিনি দুইলাখ টাকা বেতন পান এবং বেতনের সিংহভাগ স্ত্রীর হাতে তুলে দেয়ার পরও নানা ছুতোয় আরও ‘টাকা দাবি করেন তার স্ত্রী’। অন্য নারীর সাথে সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগে তার স্ত্রী তাকে ‘ব্ল্যাকমেইলি করে যাচ্ছেন’।
“এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তিনি গাড়ি চালাতে চালাতে ফোন করছেন, মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত, তিনি, এখন আত্মহত্যা করবেন।”
এরপর পুলিশ সদস্য তাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় এবং আইনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তুরাগ থানার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পাশাপাশি পাকিস্তানি নাগরিকের কাছে বাসার ঠিকানাও নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরে তুরাগ থানার একটি পুলিশদল ওই পাকিস্তানি নাগরিকের উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসায় গিয়ে তার সহকর্মী এবং তার শাশুড়িকে খবর দেন। পরে সবার উপস্থিতিতে কথাবার্তা শুরু হলে ওই পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী প্রতিনিয়ত গভীর রাতে বাসায় ফেরার অভিযোগ করেন।
“এরপর ওই দম্পতির মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া হয়।"
ওই সময় স্বামী-স্ত্রী কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।