Published : 25 Jun 2026, 07:01 PM
চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এই অঞ্চল এখন বৈশ্বিক রেডি মিক্স কংক্রিট বাজারের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশও এ আঞ্চলিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাতে-কলমে, শ্রমনির্ভর সাইট-মিক্সিং পদ্ধতির বদলে উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর, শিল্পায়িত কংক্রিট ব্যবস্থায় রূপান্তর এখন কেবলই বিকল্প নয়; দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয়তাও।
হাঁটি হাঁটি পা করে এতদূর
বাংলাদেশে রেডি মিক্স কংক্রিট প্রযুক্তির সূচনা ১৯৯৩ সালে হলেও তা বাণিজ্যিক গতি পেতে শুরু করে ১৯৯৮ সালে। তখন ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো দ্রুত সম্প্রসারণশীল নগরকেন্দ্রগুলোতে এর চাহিদা বাড়তে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান সারাদেশে ১০০টিরও বেশি রেডি মিক্স কংক্রিট প্লান্ট পরিচালনা করছে।
এ খাতে চাহিদা পূরণ ও বাজার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে শাহ্ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট, ক্রাউন, বসুন্ধরা রেডি মিক্স কংক্রিট, এনডিই রেডি মিক্স কংক্রিটসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে শাহ্ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট সর্বোচ্চ বাজার অংশীদারত্ব নিয়ে এককভাবে শিল্পখাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে প্রচলিত নির্মাণ সাইট মানেই ছিল পরিবেশগত দূষণের একটি পরিচিত চিত্র। খোলা সিমেন্টের ব্যাগ, উন্মুক্ত অ্যাগ্রিগেটের স্তূপ এবং সাইটে মিক্সারের অবিরাম শব্দ ছিল নগর উন্নয়নের সাধারণ দৃশ্য। তবে এই প্রচলিত পদ্ধতির মূল্যও চুকাতে হয় অনেক বেশি; উপকরণের অপচয়, শব্দদূষণ এবং বাতাসে সূক্ষ্ম ধুলিকণার ছড়িয়ে পড়ার মতো ক্ষতি রয়েছে। এ চিত্রে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে শাহ্ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট। জনবহুল সড়ক ও নির্মাণস্থল থেকে উৎপাদন সরিয়ে নিয়ন্ত্রিত ও কম্পিউটারাইজড ফ্যাসিলিটিতে নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচ্ছন্ন নির্মাণ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে।
এই প্রক্রিয়ায় অনুমাননির্ভরতা দূর হয়। যেহেতু মিক্সিং একটি আবদ্ধ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তাই আশপাশের মানুষের জন্য সাধারণত যে ধুলা ও শব্দদূষণ তৈরি হয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ট্রানজিট মিক্সার যখন সাইটে পৌঁছে, তখন কংক্রিট ঢালাইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে। এটি নির্মাণকে করে আরও পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর।
জিরো-ওয়েস্ট দর্শন
নির্মাণে টেকসইতার শুরু হয় কাঁচামালের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রচলিত সাইট-মিক্সড কংক্রিটে প্রায়ই অতিরিক্ত অর্ডার বা ভুল মিক্সিং অনুপাতের কারণে অতিরিক্ত উপকরণ তৈরি হয়, যা পুনর্ব্যবহার করা যায় না এবং শেষ পর্যন্ত পরিবেশগত বর্জ্যে পরিণত হয়। শাহ্ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট জিরো-ওয়েস্ট উৎপাদন মডেলের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করেছে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা নির্দিষ্ট ঢালাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক পরিমাণ ও গ্রেড নির্ধারণ করতে সাইটে প্রি-ভিজিট অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করেন।
শাহ সিমেন্ট রেডি-মিক্স কংক্রিট থাইল্যান্ডের বৃহত্তম রেডি-মিক্স কংক্রিট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিয়াম সিটি গ্রুপ-এর সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক দক্ষতা ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্ট্যান্ডার্ডাইজড মিক্স ডিজাইন তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিটি ব্যাচ নির্ভুল অনুপাতে প্রস্তুত ও সমভাবে মিশ্রিত হয়।
শাহ সিমেন্ট রেডি-মিক্স নিজস্ব ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং বুয়েটের স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতি ঘনমিটার কংক্রিটে নিশ্চিত করে ধারাবাহিক গুণগত মান, উচ্চতর শক্তি এবং অতুলনীয় নির্ভরযোগ্যতা।
‘সবুজ কৌশল’
২৫০টিরও বেশি ট্রানজিট মিক্সার এবং ৫০টি পাম্পের বিশাল বহর নিঃসন্দেহে একটি বড় শিল্প সক্ষমতার পরিচয়। তবে শাহ্ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট তাদের লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করে। ঢাকার মতো শহরে, যেখানে যানজট একটি ছোট দূরত্বকেও দীর্ঘ যাত্রায় পরিণত করতে পারে, সেখানে পরিবহন সময় টেকসইতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শাহ্ সিমেন্ট একটি ভৌগোলিক সমাধান গ্রহণ করেছে।
রাজধানী ও এর আশপাশে ১২টি কৌশলগত লোকেশনে ১৪টি প্লান্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যা নির্মাণস্থলের কাছাকাছি থাকার জন্য পরিকল্পিত। মূল কৌশল হলো নির্মাণ সাইটের যতটা সম্ভব কাছাকাছি থাকা; পাশাপাশি কম ডেলিভারি দূরত্ব মানে কম জ্বালানি ব্যবহার।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে শাহ্ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট ব্যবহার হয়ে থাকে।
ডিসক্লেইমার
প্রতিবেদনটি একটি বিজ্ঞাপন বার্তা; সংবাদ প্রতিবেদন নয়। আর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি করা। এর কোনো কনটেন্টের দায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নয়।