১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মা-মেয়ে খুন: গৃহকর্মীর স্বামীর ‘স্বীকারোক্তি’

গৃহকর্মী আয়েশা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

মা-মেয়ে খুন: গৃহকর্মীর স্বামীর ‘স্বীকারোক্তি’
গত ১০ ডিসেম্বর ঝালকাঠি থেকে গৃহকর্মী আয়েশা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Dec 2025, 04:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:19 PM

ঢাকার মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশা আক্তারের স্বামী রাব্বী আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছে।

রোববার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার মহানগর হাকিম রিপন হোসেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান বলেন, তিন দিনের রিমান্ড শেষে সেদিন রাব্বীকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই সহিদুল ওসমান মাসুম। আসামি জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করা হয়। পরে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার রিমান্ডে রয়েছেন বলে জানান এসআই মিজানুর রহমান।

গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুরের এক বাসায় ৪৮ বছর বয়সী লায়লা আফরোজ এবং তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে গলা কেটে খুন করা হয়।

ওই বাসায় কাজ করতেন আয়েশা। সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে ঘটনার আগে পরে কেবল তাকেই ওই বাসায় ঢুকতে এবং বের হতে দেখা যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর ওইদিন রাতে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন লায়লার স্বামী আজিজুল ইসলাম। এরপর ১০ ডিসেম্বর দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ফুফু শাশুড়ির বাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পরদিন আয়েশাকে ছয় দিনের এবং তার স্বামী রাব্বিকে তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে নিয়ে ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে।

প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকালে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে যান আজিজুল। স্কুলে পরীক্ষা চলমান থাকায় বাসায় ফেরেন তাড়াতাড়ি।

বেলা ১১টার দিকে ফিরে বাসার এসেই তিনি স্ত্রী-কন্যার লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশেপাশের বাসিন্দারা বেরিয়ে আসেন, খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

ভবনের একাধিক সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলে, সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসায় ঢোকেন আনুমানিক ২০ বছর বয়সী আয়েশা। আর ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুলড্রেস পরে নির্বিঘ্নে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ওই স্কুলড্রেসটি ছিল খুন হওয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার।

ঘটনার পর দারোয়ান খালেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তিনি পুলিশকে বলেছেন, চার দিন আগে বাসায় কাজের জন্য আসায় তরুণীকে ওই ফ্ল্যাটে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ওই তরুণী তার পূর্বপরিচিত নন।

জোড়া খুনের এ ঘটনায় আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।