Published : 15 Jan 2026, 06:25 PM
জাতীয় বেতন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মাকছুদুর রহমান সরকার।
সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হিসাববিজ্ঞান বিভাগের এ অধ্যাপক বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে সুপারিশমালা তৈরি করা হয়েছে, সেটা কমিশন আমলে নেয়নি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে এক ব্রিফিংয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মাকছুদুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘‘বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনার আলোকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে চার সদস্যের সাব কমিটি করা হয়।
‘‘ওই কমিটিকে তিনটি নির্দিষ্ট কার্যপরিধির (টার্মস অব রেফারেন্স) আওতায় সুপারিশমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।’’
উপ-কমিটি বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ‘বাস্তবায়নযোগ্য ও ন্যায়সংগত’ মোট ৩৩টি প্রস্তাব উপস্থাপন করে এবং ধাপে ধাপে এগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ জানায়।
অধিকাংশ প্রস্তাবে বেতন-ভাতাকে কাজের মান ও ‘পারফরম্যান্সের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়।
মাকছুদুর রহমান বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে আমি সাবকমিটির প্রতিবেদনটি পৃথকভাবে এজেন্ডাভুক্ত করে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় আলোচনার অনুরোধ করলেও সেটি আমলে নেওয়া হয়নি।’’
গত ৮ জানুয়ারি কমিশনের সবশেষ সভায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ দেখার পর মনে হয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।”
গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান, সরকারি মঞ্জুরিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে ২২ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
সেখানে মাকছুদুর রহমান সরকারকে খণ্ডকালীন সদস্য করা হয়।