১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সদরঘাটে দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫, দুই দিনেও পাওয়া যায়নি মিরাজকে

লঞ্চ চাপায় পিষ্ট হয়ে নদীতে পড়ে যান মিরাজ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Mar 2026, 07:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:12 PM

ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চের চাপায় পিষ্ট হয়ে নদীতে পড়া মিরাজকে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার করা যায়নি।

ওই ঘটনায় দুই লঞ্চের পাঁচ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন সদরঘাট নৌ পুলিশের ওসি সোহাগ রানা।

৫২ বছর বয়সি মিরাজ একই ঘটনায় নিহত সোহেলের শ্বশুর। অপরদিকে সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবি মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার বিকালে তারা ট্রলারে করে মাঝ নদীতে থাকা লঞ্চে উঠতে যাচ্ছিলেন। তখন ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চ এবং ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চের মাঝখানে ট্রলারটি চাপা পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছিলেন, একটি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে যাওয়ার জন্য পেছাতে (ব্যাকগিয়ার) শুরু করলে দুই লঞ্চের চাপায় পড়ে যায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি। দুই লঞ্চের চাপায় একজন যাত্রীর পা টুকরো হয়ে কেটে যায়। আরেকজন যাত্রী পিষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে যান।

নৌ পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ মিরাজের ভাই সিরাজ ফকির শুক্রবার ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।

বেপোরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগের ওই মামলায় সাত জনের নামে এবং নাম না জানা আরো চার-পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুই লঞ্চের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন ওসি সোহাগ রানা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দুই লঞ্চের স্টাফ ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

বুধবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠনের পাশাপাশি দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিলের তথ্য দেন।

তিনি বলেন, “আমরা এসব বিষয়ে খুব সিরিয়াস। প্রকৃতপক্ষে যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেব। কারণ নৌপথে ছোট্ট দুর্ঘটনাও মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।"