Published : 18 Dec 2025, 04:44 PM
গুম হওয়া ব্যক্তি পাঁচ বছরের মধ্যে জীবিত না ফিরলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে—এমন বিধান থাকা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে খসড়াটি ‘নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন’ পায় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।
অধ্যাদেশের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইবুনালের’ জন্য মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে।
এছাড়া ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারীও ট্রাইবুনাল আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন এবং গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কমিশনের পুর্বানুমতি ছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশের খসড়াতেও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।
সরকার বলছে, বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের ইকোসিস্টেম বিশ্বে বিরল ও অনন্য। কিন্তু নদী ও নদীপথের বাধা সৃষ্টি করে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাবের কারণে এই ইকোসিস্টেম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পড়ছে। অন্যদিক, জলাশয় রক্ষায় আইনি কাঠামোরও অপ্রতুলতা রয়েছে।
এই অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করা হবে।
হাওর ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারির বিধানও রয়েছে এতে।
অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি এলাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকা ঘোষণা করার বিধানও রয়েছে।
এ অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি এলাকায় নিষিদ্ধ কার্যক্রমের বিবরণ, নিষিদ্ধ কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং উক্ত অপরাধের দায়ে দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
হাওর ও জলাভূমি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অন্যান্য কর্তৃপক্ষ বা দপ্তর বা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিধি, প্রবিধান ও নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন রয়েছে। বার্নে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের দূতাবাস থাকলেও বাংলাদেশের নেই। এ কারণে জেনেভার পামার্নেন্ট মিশনেই এতদিন ধরে জাতিসংঘ ও দূতাবাসের কাজগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছিল।
সরকার বলছে, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী ও কৌশলগত অংশীদার। এসব বিবেচনায় নিয়ে বার্নে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে একজন রাষ্ট্রদূত, ফার্স্ট সেক্রেটারি, কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ দিয়ে দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে।
এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮২টি মিশন অফিস রয়েছে।
এদিন বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথাও বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
এতে বলা হয়, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান নিয়মিতভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, খোঁজখবর জানাচ্ছেন।
বুধবার রাতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছিল হাদির অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’।