২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুদকের দুই ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট মামলা আসিফ মাহমুদের

রুল জারি হলে সেসবের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চলমান অনুসন্ধান বা তদন্ত নিয়ে আর কোনো প্রেস ব্রিফিং না করতে দুদকের প্রতি নির্দেশনার আবেদন করা হয়েছে।

দুদকের দুই ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট মামলা আসিফ মাহমুদের

রিটকারীর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 04:24 PM

Updated : 28 Sep 2026, 04:58 PM

এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়েই ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দুদকের করা দুই প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রোববার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

এতে ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের করা প্রেস ব্রিফিংকে কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নাগরিকের মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষার যে বিধান রয়েছে তা দুই ব্রিফিংয়ে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মামলা দাবি করা হয়েছে। এসব ব্রিফিং দুদকের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা-২০১১ ’-এর পরিপন্থি কেন নয়, তা জানতে চেয়েও রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

রুল জারি হলে সেসবের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চলমান অনুসন্ধান বা তদন্ত নিয়ে আর কোনো প্রেস ব্রিফিং না করতে দুদকের প্রতি নির্দেশনার আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়া ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য একই গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যাহার করে প্রকাশের অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।

মামলায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অর্থের বা অর্থ পাচারের অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে প্রকাশ্যে সত্য হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা দুদক বা তার জনসংযোগ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়নি। অনুসন্ধান শুরুর পরপরই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’। এতে বিচার হওয়ার আগেই নির্দোষ থাকার আইনি ধারণা ক্ষুণ্ণ হয় এবং মিডিয়া ট্রায়ালের সৃষ্টি হয়।

রিট মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হওয়ার কথা জানানোর সময় এসব প্রেস ব্রিফিং করা হয়।

দুদক তার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ আসিফ মাহমুদের সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করার কাজে যুক্ত হয়েছে বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

দুদক গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানায়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্তগুলো প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ছিল বলে রিট আবেদনে বলা হয়েছে।

ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বক্তব্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সেটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত বলে ব্যাখ্যা করেন।

তবে ওই বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়া হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলন করে সরকারি আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথি তুলে ধরে অভিযোগগুলোর প্রতিবাদ করেন। পরদিন তার আইনজীবী দুদকে আইনি নোটিস পাঠান। ওই নোটিসে ২ সেপ্টেম্বরের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং যাচাই ও প্রমাণিত তথ্য ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য না দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আইনি নোটিসের পরও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করে বলে রিট আবেদনে বলা হয়েছে।

ওই ব্রিফিংয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ৩৬ জন জেলা প্রশাসক, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে শত কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্য ও বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থপাচার এবং পর্তুগালে সম্পত্তি কেনার অভিযোগের প্রসঙ্গও আনা হয়েছে মামলায়। এসব অভিযোগ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘ব্রেকিং নিউজ’ হিসেবে প্রচার হওয়ায় রিটকারীর ‘সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ’ হয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, “তদন্ত বা অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বা কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করা বা প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে— এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কোনো কর্তৃত্ব তাদের নেই।”