Published : 04 Aug 2026, 04:30 PM
সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা, ট্রানজিট ও নাবিক পরিবর্তন (ক্রু চেঞ্জ) সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেছেন, “আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতে বাংলাদেশের নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং তাদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত।”
এ লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে একটি কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মেরিটাইম কাউন্সিলের প্রথম সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং সামুদ্রিক শিল্প খাতের অংশীজনরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে ট্রানজিট ভিসা, নাবিক পরিবর্তন (ক্রু চেঞ্জ) ভিসা, তীরে প্রবেশের অনুমতিপত্র (শোর পাস) এবং প্রবেশ অনুমতি (এন্ট্রি পারমিট) পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাবিক সরবরাহকারী দেশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজে নিয়োগ, নাবিক পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
এর ফলে বাংলাদেশি নাবিকদের চাকরির বাজার সঙ্কুচিত হচ্ছে এবং এ খাতের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে বলেও সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি নাবিকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার এবং আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় সভায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় ২০২৮ সালের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) সদস্য রাষ্ট্র অডিট স্কিমের প্রস্তুতি, ২০১৭ সালের অডিটে চিহ্নিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির অগ্রগতি এবং একটি সমন্বিত জাতীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়।
এ ছাড়া হংকং কনভেনশন বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা, বর্জ্য শোধন, সংরক্ষণ ও অপসারণ সুবিধা তৈরির রোডম্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) ‘শূন্য-কার্বন নির্গমন কাঠামো’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাহাজের জ্বালানি ব্যবহারের জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা, কার্বন নির্গমনের ভিত্তিরেখা নির্ধারণ এবং জাহাজের জ্বালানি পর্যবেক্ষণ কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সভায়।
এ ছাড়া সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিপজ্জনক পণ্য (আইএমডিজি) কোড বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ‘বিপজ্জনক পণ্য যাচাইকরণ মডিউল’ সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় দেশের সামুদ্রিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় সামুদ্রিক নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় বলা হয়, এ নীতির মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়ন, নীল অর্থনীতির বিকাশ, বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, নাবিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং সামুদ্রিক খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য সমন্বিত দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।