১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের উচিত ‘সুযোগের সদ্ব্যবহার’ করা: প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে শামা ওবায়েদ

প্রধানমন্ত্রীর ভারতসহ অন্যান্য সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 09:01 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমবে কিনা প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যা সমাধানের সুযোগ থাকে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে, সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লি থেকে ‘কথা বলার সুযোগ’ বন্ধ করার বিষয়ও মনে করিয়ে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে, তা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমার সুযোগ হিসাবে সরকার দেখছে কি-না, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি বলি, যে কোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে। 

“সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে, সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা। আমরা তো আগেই বলেছি যে, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে কথা বলে, সেটা বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেবে না, নেয় না।”

বাংলাদেশের মানুষ ‘ভালোভাবে না নেওয়ার’ কারণ হিসাবে ওবায়েদ বলেন, “জুলাইয়ের (জুলাই অভ্যুত্থান) কথা এখনো মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ হতে হবে।” 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে দিল্লি সফরের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুটি আমন্ত্রণ রয়েছে। এর একটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফরের; অন্যটি বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়ার।

ভারত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়; বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকার বলছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনারের সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ব্রিফিংয়ে দুই আমন্ত্রণের প্রসঙ্গ তুলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চান এক সাংবাদিক।

জবাবে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকসের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসন অব বিমসটেক, এই পার্থক্যটা আপনারা বোঝার চেষ্টা করুন।

“এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একটা চিঠি লিখেছিলেন এবং সেই চিঠিটি আমাদের সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল, সেখানে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দিন তারিখ ঠিক হয়নি, কিন্তু আমন্ত্রণ একটা আছে সেখানে। সেটা আমরা দেখব কখন হয়।”

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ভারতের আমন্ত্রণ সরকার পর্যালোচনা করছে এবং সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিন ৫ অগাস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর দৃশ্যত, কিছুটা কঠোর অবস্থানে চলে গেছে বাংলাদেশ সরকার।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতের পর দুপক্ষের তরফে আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। 

একদিকে সম্পর্ক ভালো করতে ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির কথা বলেছে ঢাকা; অন্যদিকে ভারতের হাই কমিশনার বলেছেন, দুই প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসলে দ্বিপক্ষীয় ‘সব সমস্যার’ সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।

মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তাদের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

জয়সওয়াল বলেন, “আমরা এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এরপর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এসব আমন্ত্রণের বিষয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর জাপান এবং ভারতের সফরের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার প্রশ্নে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবে জাপান সফর করবেন, এখনও সেটার দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। দুই দেশের জন্য যেটা উপযুক্ত সময়, সেটা নির্ধারিত হবে।

“প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন কাজে এখন ব্যস্ত আছেন। ভারত সফরসহ অন্যান্য সফর কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অবশ্যই, দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করেই সেটা চূড়ান্ত হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে সরকার সবসময় ‘ইতিবাচক’ হওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তিনি আরও বলেছেন, সফরের ‘সম্ভাবনাতো সবসময়ই আছে’।

প্রধানমন্ত্রীর অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যস্ততার বাইরে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সময় মিললে যে কোনো দেশে সফর হতে পারে বলে মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ বলেন, “তার মধ্যেই যদি সবকিছু মেলে অবশ্যই ভারত সফর হবে, জাপান সফর হবে, সব সফরই হবে। সেটা দেখা যাক। 

“আমি আবারও বলছি, সব দেশ সফরের ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সরকার পজেটিভ। কিন্তু এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময়ের উপরে এবং দুই দেশের (মধ্যে) আলোচনা কতটুক এগোচ্ছে, সেটার উপর।”

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে যাবেন, নাকি দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ব্রিকস তো অনেক দেরি। এক মাসের মধ্যে অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে।”

আরও পড়ুন:  

কোন পথে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক?

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গলার কাঁটা

দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যের পর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়

ভালো সম্পর্ক হলে উভয় দেশের জন্য 'উইন-উইন': দীনেশ ত্রিবেদী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ ভারতীয় দূত ত্রিবেদীর

হাদি হত্যার আসামি ও হাসিনাকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি ঢাকার

দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ত্রিবেদীর