Published : 10 Aug 2026, 05:14 PM
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ বিষয় থাকলেও ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেসবের সমাধান দরকার বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর এ কথা বলেন তিনি।
ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, “আগেরবারও আমি উল্লেখ করেছি যে, ভারতের জনগণ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রতীক্ষায় আছেন। আমরা খুবই ইতিবাচক যে, দুই নেতা সাথে বসলে, আলোচনা হলে... গণতন্ত্রে ইস্যুজ (বিরোধপূর্ণ বিষয়াদি) থাকবেই, ইস্যুজ না থাকলে ওটা গণতন্ত্র না।
“আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে—ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে উইন-উইন সিচুয়েশন। এটা আমাদের ঐতিহাসিকভাবে আছে, এটা তো আপনি বদলাতে পারবেন না। প্রতিবেশী তো বদলাতে পারবেন না, ইতিহাস বদলাতে পারবেন না।”
ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমি সবসময় বলি, আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। আমরা তো স্বপ্ন ভাগাভাগি করি, তাই তো?
“আমার মনে হচ্ছে, আগামী দিন খুবই ভালো হবে। ইস্যুজটা শর্ট-আউট করতেই হবে, দুদিক থেকে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী। খুবই ভালো লাগল, উনার (প্রধানমন্ত্রী) সাথে দেখা হল।”
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপড়েনের বিষয়ে এক প্রশ্নে হাই কমিশনার বলেন, “ইস্যুজ না থাকলে তো গণতন্ত্র থাকবে না। আপনি-আমি, বাড়িতেও তো ইস্যু থাকে। আমি যখন বাড়ি যাই, বাড়িতেও ইস্যু থাকে।
“কোনো ইস্যু এটা না যে, যেটা আমরা সমাধান করতে পারব না—এটা আমি বলতে পারি। এটা আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, কোনো ইস্যু এমন না—যেটা আমরা বসে সমাধান করতে পারি না।
“আর আমাদের মধ্যে এটা উইন-উইন সিচুয়েশন। দুদেশের ভাইব্রেন্ট ডেমোক্রেসি (প্রাণবন্ত গণতন্ত্র), আমি সবসময় বলি, একটা গণতন্ত্র দুদেশে। আর দুদেশই চায়, লোকেরা, সাধারণ মানুষই চায়... ভারতের সাধারণ মানুষ, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একই জিনিস চায়—সম্পর্ক ভালো হোক। এটা স্বাভাবিক।”
ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাত শেষ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান ত্রিবেদী। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
কী ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে ঢাকায় হাই কমিশনার করে পাঠিয়েছেন, তার একটা ধারণা দেন দীনেশ ত্রিবেদী।
সে প্রসঙ্গে তিনি নিজ থেকেই বলেন, “আমার এখানে আসা...আমার প্রধানমন্ত্রী তো আমাকে সবসময় এটা বলেছেন যে, ‘সম্পর্ক ভালো থাকা বিশেষ দরকার’। নাহলে আমি কেন আসছি!”
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মেরামতের এক সন্ধিক্ষণে গত ১২ জুন ভারতের হাই কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান দীনেশ ত্রিবেদী।
ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ত্রিবেদীকে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে কূটনৈতিক দায়িত্বে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে দিল্লি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরিবেশ তুলে ধরে ত্রিবেদী বলেন, “আপনাদের প্রধানমন্ত্রী, আগামী গতকালও বলেছিলাম, উনি জনতার লোক। আর খুবই ভালো লাগল। উই মেট মোর অ্যাজ এ পাবলিক ফিগার।
“আমি কূটনীতিক নই। এটা জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে জনগণের প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা। আর আমি খুবই আনন্দিত যে, উনার সঙ্গে আমার দেখা হল। একদম দেখা হওয়ার সাথে সাথে মনে হয়নি যে—উনার সাথে আমি প্রথমবার দেখা করেছি। ভালো, খুবই হাম্বল। অন্য দ্য গ্রাউন্ড।”