০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন হবে: নজরুল ইসলাম খান

স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক প্রায় শেষ বলেছেন তথ্যমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 05:38 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

জন প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন আমরা করতে চাই। কিন্তু সেই সংস্কার কমিশনকে যারা সাপোর্ট করবে, ওইখানে যদি ভূত-টুত থাকে ওইটা ক্লিয়ার না করে করলে তো ভালো কাজ হবে না। একটু সময় লাগতেছে, শিগগিরই হবে ইনশাল্লাহ।”

সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষ্যে সোমবার দুপুরে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম এ কথা বলেন। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র শাপলায় এ মতবিনিময় হয়।

মত বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, “জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করার জন্য নির্বাচনি ইশতেহারে যে কথা বলা আছে, সরকার সে পয়েন্ট থেকে সড়ে আসে নাই। বরঞ্চ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। কিছু প্রক্রিয়াও আপনারা দেখেছেন। কিছু কিছু কাজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের প্রশাসনে আগের সরকারের ধ্বজাবাহী কিছু ব্যক্তি এখনো রয়ে গেছেন, তাদেরকে সে সমস্ত জায়গা থেকে চিহ্নিত করে ক্লিনজিং অপারেশন করার একটা চেষ্টা আমরা করেছি।” 

এমন কিছু করা যাবে না, যাতে দেশ এবং জাতির ক্ষতি হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “প্রশাসনকে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে সেখান থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তবে জনপ্রশাসন সংস্কার করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সেটাও আমরা লক্ষ্য করেছি এবং সেটা আমরা দেখেছি। খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারের আনুষ্ঠানিকভাবে একটা কমিশন করতে যাচ্ছি; সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।”

স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক প্রায় শেষ

স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক প্রায় শেষ বলে তথ্য দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষ্যে মত বিনিময়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণমাধ্যমের যারাই কথা বলেছেন, তারা সবাই আমাদের সরকারকে এবং প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করেছেন যে, এই প্রথম কোনো গণমাধ্যমে কোনো ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব তারা অনুভব করেন নাই। সেই কারণে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক করার জন্য, গণমাধ্যম কমিশন গঠন করার জন্য তাদের আগ্রহ এবং আমাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে কোনো অমিল নাই। 

“প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছি এবং অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকের কাজও আমরা প্রায় শেষ করে নিয়ে এসছি। এখন আমরা ওয়ার্কিং গ্রুপ করব। তারা একটা ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের ড্রাফট তৈরি করবে। তারপর আমরা এটা মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করব। কাজ এগিয়ে চলছে সবাইকে সাথে নিয়ে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম এবং সাফল্যগুলোর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ।