Published : 18 Aug 2026, 12:08 AM
হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে চেম্বার আদালত।
এর ফলে তার কারামুক্তিতে আইনগত আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ দেন।
সাবেক এই প্রধান বিচারপতির আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আজ চেম্বার জজ রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলে ‘নো অর্ডার’ দিয়ে হাই কোর্টের জামিন বহাল রেখেছেন।"
মামলার পেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, "মামলাটির বাদী রেস্টুরেন্ট বয় উজ্জ্বল মিয়া। তিনি ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর মামলাটি করেন। কিন্তু মামলা আগে থেকে অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক কারাগারে আছেন।"
সাজু আরও বলেন, “সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলার সবকটিতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে আর কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার না দেখালে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।”
এর আগে এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে গত ১৭ মে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে গত ৯ অগাস্ট প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ তা নিষ্পত্তি করে হাই কোর্টের আদেশই বহাল রাখে।
এর পরের দিনই বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেয়।
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব পান খায়রুল হক। পরের বছরের ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।
পরে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বানায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা ওই পদে পুনর্নিয়োগ পান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আট দিন পর ১৩ অগাস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এরপর গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।