Published : 24 Aug 2026, 04:10 PM
ঢাকার সবুজবাগে ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী নামের এক তরুণীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধারের মামলায় রকি নামের এক আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মমিনুল ইসলাম জানান, শুনানিতে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
গত ৬ অগাস্ট সবুজবাগের মাদারটেক বাগানবাড়ির গরুর খামার লাগোয়া সেতুর নিচ থেকে একটি খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ছবি দেখে দেহাংশটি ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীর বলে শনাক্ত করেন তার মা-বাবা। ১৯ বছর বয়সি ফালানী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে।
ফালানীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ৬ অগাস্ট সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই রাশেদুল হাসান।
এ ঘটনায় শুক্রবার ফালানীর বান্ধবী নুসরাত জাহান সাহিদাকে (১৯), ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), সুজন (২০), মামুন (২০) ও রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পিকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শনিবার তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম প্রত্যেক আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে গেল ৫ অগাস্ট খিলগাঁও থানা পুলিশ রকিকে গ্রেপ্তার করে, যিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ ফালানী হত্যার সঙ্গে রকির সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে রোববার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার।
এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আরেক আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
রকিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে রিমান্ডে থাকা সাহিদা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, কারাগারে থাকা রকি এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সিসিটিভি ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, রকি ঘটনাস্থলে ছিলেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি।
সিসিটিভি ভিডিওর ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী ও আসামিরা পূর্বপরিচিত। ৩ অগাস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগীসহ গ্রেপ্তার আসামিরা এবং আরও বেশ কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি বাগানবাড়ি কালভার্টের ওপর অনেকক্ষণ একসঙ্গে বসেছিলেন। তারপর থেকে ভুক্তভোগীকে আর কোথাও দেখা যায়নি। ৪ অগাস্ট রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ফারুক ও ফালানী বাদে অন্য অসামিরা কালভার্টের ওপর অবস্থান করেন।
ফালানীর দেহাংশের হদিস মেলেনি ১৮ দিনেও
খণ্ডিত লাশ উদ্ধার: ট্যাটু দেখে মেয়েকে শনাক্ত করেন মা-বাবা, ৫ আসামি রিমান্ডে