Published : 06 Jan 2026, 08:51 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধনে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার কথা বলছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলছেন, “এই মডেল কীভাবে কাজ করে তা জানতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি ও ইউরোপের অনেক দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিছুদিন আগে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পরবর্তীতে শোকবার্তা নিয়ে এসেছিলেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা আমাদের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যখন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, তখন তারা সরাসরি বলেন যে ‘আপনাদের এই মডেলটা আমরা দেখছি’।
“নেপালেরও প্রচুর ‘ডায়াসপোরা’ পিপল (প্রবাসী) আছে, শ্রীলঙ্কারও একই। শ্রীলঙ্কানরা অনেক আগে থেকে, আমাদেরও অনেক আগে থেকে তারা বিদেশে, তাদের জনগণ বিদেশে থাকছে। তো এই মডেলটা…এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি ও ইউরোপের আরও অনেক দেশ আমাদের এই মডেলটা দিতে চাচ্ছে, এটা কীভাবে কাজ করে।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রেসসচিব।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে দেশ ও দেশের বাইরে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার।
শফিকুল আলম বলেন, “নিবন্ধিতদের মধ্যে দেশের ভেতর থেকে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন রয়েছেন। তারা মূলত ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন না। বাকি ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন ভোটার বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ‘ডায়াসপোরা’।
“এটা (পোস্টাল ভোটিং) এই প্রথমবারের আমরা করছি। প্রথমবার এটা করার পরে এটা একটা অভূতপূর্ব সাড়া। প্রধান উপদেষ্টা এ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। অন্য দেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশে দীর্ঘদিন ধরে ‘ডায়াসপোরা’ (প্রবাসী) ভোটিং চালু আছে, সেখানে ‘গ্লোবাল ইনক্লুশন রেট’ (পোস্টাল ব্যালটে বৈশ্বিক অন্তর্ভুক্তির হার) গড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে প্রথম বছরেই এ হার ৫ শতাংশের বেশি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই নিবন্ধিত ভোটাররা পোস্টাল ব্যালট দিতে পারবেন। সম্ভাব্য সময় ধরা হচ্ছে ২১ জানুয়ারির দিকে।
“আপনারা জানেন যে বাংলাদেশের প্রবাসী জনসংখ্যা অনেক; কেউ কেউ বলেন যে এটা প্রায় দেড় কোটির মতো। তারা যেন প্রত্যেকেই ভোট দিতে পারেন—সেইটার দিকে আমাদের আসলে লক্ষ্য রাখতে হবে। সেই জায়গায় আমরা পৌঁছতে চাই। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘এবারের যে অভিজ্ঞতাটা, সেটা সামনের দিনগুলোতে ভোটে আমাদের লাগবে’।”
ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে চালু করা ভোটের গাড়ি বা ‘ক্যারাভান’ কর্মসূচি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন প্রেসসচিব।
তিনি বলেন, গত ২০ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে ১০টি ভোটের গাড়ি বিভিন্ন জেলায় যাত্রা শুরু করে। অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ায় গাড়ির সংখ্যা বাড়িয়ে ২০টি করা হচ্ছে।
“আগে যেখানে ৩০০টি উপজেলায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ৪৯৫টি উপজেলায় নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভোলা বা হাতিয়ার মতো দ্বীপ উপজেলাগুলোতেও যাওয়ার চেষ্টা থাকবে।”
নির্বাচন নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুলিশ, আনসার, কোস্টগার্ড ও বিজিবিসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭৫ শতাংশ সদস্যের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রশিক্ষণও দ্রুত শেষ হবে।
“সিসিটিভি ও ‘বডি-অন-ক্যামেরা’ ব্যবহারের প্রশিক্ষণ চলছে এবং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”
ভোট সংক্রান্ত সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা দ্রুত শনাক্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ‘বিশেষ অ্যাপ’ তৈরি করছে বলেও তথ্য দেন প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, “প্রতিটি উপজেলায় একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে। পাশাপাশি জেলা, বিভাগ ও ঢাকায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থাকবে।”
নির্বাচন সামনে রেখে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একটি বৈঠক হয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছেন প্রেস সচিব।
শফিকুল আলম বলেন, “আজকে (মঙ্গলবার) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একটি বৈঠক ছিল। আবারও, এটাও নির্বাচনকে সামনে রেখেই। নির্বাচনের প্রস্তুতি, বিশেষ করে গণভোটের বিষয়টি নিয়ে। যাতে আমাদের ইমামদেরকে উদ্বুদ্ধ করা যায়, তারা যাতে শুক্রবারে খুতবার সময় বা অন্যান্য সময়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন গণভোটের বিষয়ে, গণভোটের গুরুত্বের বিষয়ে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে।
“তো সেই জন্য আজকে (মঙ্গলবার) ইমামদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একটি বড় সভা ছিল। সেখানে (সভায়) বলা হয়, ইমামদের সঙ্গে, ইতোমধ্যে ৫০০ জন আলেমের সঙ্গে তারা (ধর্ম মন্ত্রণালয়) এক ধরনের ঘরোয়া বৈঠক করেছেন। এই গণভোটের বিষয়ে বলেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।”
দেশের ৭৭ হাজার মক্তব ও প্রায় ৪ লাখ মসজিদের ইমামদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রেসসচিব। এ ছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মন্দির, গির্জা ও উপাসনালয়ের মাধ্যমেও জনগণকে গণভোটে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।