১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা না পেলে ভোট ‘প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে’: সিইসি

“ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ নাবিকের মত এগিয়ে যাচ্ছি।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Nov 2025, 11:53 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:08 PM

সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে ভবিষ্যতে যত চ্যালেঞ্জই আসুকই না কেন, তা মোকাবিলা করতে কমিশন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

তার কথায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা না পেলে ভোট ‘প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে’, এজন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের তৃতীয় দিনের স্বাগত বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “একটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমরা চেষ্টা করে যাব। আমাদের নিয়ত একদম পরিষ্কার, আমাদের কমিটমেন্ট পরিষ্কার। আমরা সেভাবেই কাজ করছি; সেভাবে কাজ করছি। যত ঝঞ্ঝা, যত সাইক্লোন, ঝড় আসুক না কেন—আমরা এটা মোকাবিলা করে একটা সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমাদের পক্ষ থেকে নেব। এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।”

সংলাপের তৃতীয় দিনে সকালের পর্বে অংশ নিয়েছে, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল।

এবারের নির্বাচনের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি ও ইসির অগ্রগতি সিইসি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।

প্রবাসী বাংলাদেশি, সরকারি চাকরিজীবি, নির্বাচনের কাজে সম্পৃক্ত লোকবল ও কারাবান্দিদের জন্য পোস্টাল ভোট নেওয়ার প্রস্তুতিও জানান সিইসি।

এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, “অনেকগুলো নতুন, অথচ বড় এবং কমপ্লেক্স টাস্ক আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা কিন্তু হাল ছাড়ি নাই—এগিয়ে যাচ্ছি। সেদিন আমি বলছিলাম যে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ জাহাজের নাবিকের মত আমরা স্টিয়ারিং করে, নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ সাকসেসফুলি আমরা এ পর্যন্ত এগিয়ে আসছি।”

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমান ইসি আসার পর থেকে নানা ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও তা করবে জানিয়ে দলগুলোর সহযোগিতা চান তিনি।

“ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও যত চ্যালেঞ্জই আসুক, ইনশাআল্লাহ আমরা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত এবং এগুলাকে উতরে আমাদেরকে এগোতে হবে।”

আচরণবিধি প্রতিপালনের লক্ষ্যে দলগুলোর সহায়তাই মূল লক্ষ্য মন্তব্য সিইসি বলেন, “আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর কোননো নির্বাচন করা যাবে না। এটা একদম নিশ্চিত। রাজনৈতিক দল না চাইলে—রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে এবং তারা যদি সমস্যা সৃষ্টি করতে চায়—তাহলে দেখবেন যে হয়তো একটা নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।”

সংলাপ নিয়ে সিইসি বলেন, এটা একটা রেওয়াজের অংশ। সব সময় জাতীয় নির্বাচনের আগে অংশীজনের সাথে আলোচনা করা হয়। এরমধ্যে প্রধান অংশীজন রাজনৈতিক দল।

“দেশটা তো আমাদের সবার। এই সুন্দর একটা দেশ রেখে দিতে গেলে এর একটা প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে যে একটা সুন্দর নির্বাচন। এবং সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে যদি একটা প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা যায় দেশটাকে—তাহলে আমার মনে হয় দেশের জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করি এবং আমি প্রত্যাশা করি এই সহযোগিতা আমরা পাব”, বলেন সিইসি।

সোমবারের সকালের পর্বে মুক্তিজোটের আবু লায়েস মুন্না, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির আব্দুর রহমান, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের আব্দুল মান্নান, কল্যাণ পার্টির মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএমএলের নজরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখছেন।

এদিন সকাল ও বিকালের পর্বে জামায়াতে ইসলামীসহ ১২টি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইসি।

কিন্তু আগের দিন এ তালিকায় জাকের পার্টিকে যুক্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর সংলাপ সূচি আলোচনা করে পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে বলেছেন ইসি।