১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লামিয়া, লুৎফের রাষ্ট্রদূত হওয়ার সংবাদ 'ভিত্তিহীন': প্রেস সচিব

"কোনো দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের পক্ষে এ ধরনের অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে অসত্য প্রতিবেদন প্রকাশ অকল্পনীয়,” বলেন তিনি।

লামিয়া, লুৎফের রাষ্ট্রদূত হওয়ার সংবাদ 'ভিত্তিহীন': প্রেস সচিব
লামিয়া মোরশেদ ও লুৎফে সিদ্দিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Nov 2025, 11:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:07 PM

সরকারপ্রধানের এসডিজি-বিষয়ক দূত লামিয়া মোর্শেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও তার বোন হোসনা সিদ্দিকীকে বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত বানানোর খবরকে 'ভিত্তিহীন' ও 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান। 

তাদের তিনজনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে দুদিন আগে মানবজমিন পত্রিকায় একটি খবর আসে। 

এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হলে লামিয়া মোর্শেদের বক্তব্য ধরে আরেকটি সংবাদ ছাপায় দৈনিকটি।

সেই সংবাদের লিংক যুক্ত করে শনিবার প্রেস সচিব ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, “প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি–বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং তার বোন হোসনা সিদ্দিকীকে জড়িয়ে দৈনিক মানবজমিন যে সংবাদ প্রকাশ করেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

"সূত্রহীন ও কল্পনানির্ভর ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উল্লিখিত তিনজনকে বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিতে চায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, তাদের কথিত ‘রাষ্ট্রদূত হওয়ার খায়েশ’ পূরণে ‘পেশাদার কূটনীতিকদের বলি দিতে হচ্ছে’।"

প্রেস সচিবের ভাষ্য, “সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতি, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বহীন এই প্রতিবেদনে রাষ্ট্রদূতের সম্মানজনক পদকে ‘মাখন খাওয়া’ এবং তাদের কল্পিত নিয়োগকে ‘গাছেরটা খেয়ে তলারটা কুড়ানোর’ মতো অবমাননাকর উপমার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য চরম অপমানজনক ও নিন্দনীয়।

"এ ধরনের ভাষা প্রয়োগ ও ভিত্তিহীন অভিযোগ স্পষ্টভাবে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানসিকতার প্রতিফলন।"

লামিয়া মোর্শেদের বরাতের পর মানবজমিন তাদের সংবাদের সত্যতা নিয়ে যে দাবি করেছে তার পাল্টায় প্রেস সচিব বলেন, "এই বিষয়ে লামিয়া মোর্শেদ আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে মানবজমিন দাবি করে, তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রাথমিক আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে, যদিও সেই দাবিটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

"কোনো দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের পক্ষে এ ধরনের অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে অসত্য প্রতিবেদন প্রকাশ অকল্পনীয়। মানবজমিন এর মধ্য দিয়ে নিজেদের তৃতীয় সারির সংবাদমাধ্যমের মানহীনতার স্তরে নামিয়ে এনেছে এবং যথারীতি কোনো ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।"

প্রতিবেদনটিকে 'মিথ্যা', 'বিভ্রান্তিকর' ও 'মানহানিকর' আখ্যা দিয়ে সেটি অবিলম্বে প্রত্যাহার ও আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশের আহ্বান জানান প্রেস সচিব।

এ তিনজনের বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদকে ডেনমার্কের রাষ্টদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। 

তবে শফিকুল আলমের পোস্টে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।