Published : 02 Apr 2026, 11:47 PM
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে শঙ্কা কাটাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে অবৈধভাবে তেল মজুদ ঠেকাতে সারাদেশে যে অভিযান চলছে, তাতে গেল এক মাসে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করার তথ্য দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
গেল ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য দিয়েছেন।
সরকারের তরফে বলা হয়েছে, দেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে; তবে সংকটের আশঙ্কায় অস্বাভাবিক পরিমাণে তেল কেনা বা এবং অস্বাভাবিক মজুদের প্রবণতা ফিলিং স্টেশনে চাপ তৈরি করছে।
কৃষকদের সেচের ডিজেল নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বলানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন বলেন, “পেট্রোল এবং অকটেনের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কোনো সংকট নেই ডিজেলের ক্ষেত্রেও।”
তিনি বলেন, সরকারের কাছে বর্তমানে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন সরবরাহযোগ্য ডিজেল মজুদ আছে।
সরকার নানাভাবে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রতিদিন তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
বাজারে এ ধরনের অস্বাভাবিক চাপের কারণ তুলে ধরে যুগ্ম সচিব বলেন, “প্যানিক বায়িং এখনও বন্ধ হয়নি, যার প্রভাব পড়ছে ফিলিং পাম্পে। অস্বাভাবিক মজুদের প্রবণতাও এর জন্য দায়ী। যথা নিয়মে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।”
কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, “সারাদেশে কৃষকদের মাঝে ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বৃহস্পতিবারও ৬৪ জেলার ডিসিদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছে জ্বালানি বিভাগ। সেখানে ডিসিদের বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত ডিজেল মজুদ রয়েছে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
মনির হোসেনের মতে, “মজুদের প্রবণতা পরিহার করলে জ্বালানির কোনো সংকট থাকবে না।”
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের তেলের বাজার উর্ধ্বমুখী হলেও সরকার এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি।
এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন বলেন, “জনগণের কথা চিন্তা করেই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি।”
ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি কোনো কোনো যানবাহনের জন্য জ্বালানি তেল বিক্রিতে সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হবে।
এর আগে সকালে জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী। সেখানে সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনা, অবৈধ মজুদ ঠেকানো এবং কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ও ‘মনিটরিং ড্যাশবোর্ড’ চালুসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি সরবরাহ, মজুদ ও বিক্রি নিয়ে চাপের মধ্যে সরকার একদিকে অভিযানে জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় রেখে সেচ মৌসুমে ডিজেল সরবরাহ সচল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে সেই অবস্থানই আবার তুলে ধরা হল।