Published : 29 Jan 2026, 01:29 AM
‘বাহ্যিক চাপ’ কমানো, পেশাগত মান বজায় রাখা এবং সংবাদমাধ্যমে পাঠক-দর্শকের আস্থা ফেরাতে সংবাদমাধ্যমগুলোতে ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ জোরদারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন এ খাতের অংশীজনরা।
‘বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রণ: জবাবদিহিমূলক স্বাধীন সাংবাদিকতার ভিত্তি’ শীর্ষক এক সংলাপে তারা এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
সম্প্রতি মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) এ সংলাপ আয়োজন করে।
এটি আয়োজন করা হয় দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের ‘প্রোমোটিং ইফেক্টিভ, রেসপন্সিভ, অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গভার্নেন্স ইন বাংলাদেশ (পেরি)’ কর্মসূচির অধীনে। এতে সহায়তা করে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস।
অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক, সংবাদমাধ্যমের সিদ্ধান্তগ্রহীতা, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক এবং উন্নয়ন সহযোগীদের উপস্থিতিতে একটি পলিসি পেপার প্রকাশ করা হয়।
এমআরডিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম সংস্কারের লক্ষ্যে তাদের পাঁচ বছরের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। সেটার অংশ হিসেব এবং ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণকে’ উৎসাহ দিতে তাদের ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফল হিসেবে কৌশপত্রটি তৈরি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ডেইলি স্টারের প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, “সেলফ-রেগুলেশন যত কার্যকর হবে, সরকারি হস্তক্ষেপ তত কমবে।”
সংবাদমাধ্যমের ‘সেলফ-রেগুলেশনের’ নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রথমত, সাংবাদিকদের সম্মিল্লিতভাবে অঙ্গীকার করতে হবে, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ পেশাগত কাজে প্রভাব ফেলবে না। একইভাবে মালিকদেরও স্পষ্টভাবে বলতে হবে, তারা তাদের গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেবেন না। সম্পাদককে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও কার্যকর পরিচালনার ক্ষমতা দিতে হবে।”
নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, “গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব সমাধান বলা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, একটি মিডিয়া কমিশন হবে, যেখানে সরকার যেমন অর্থায়ন করবে, তেমনি গণমাধ্যমগুলোও অর্থায়ন করবে এবং এটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। সাংবাদিকদের ওপর কেউ অন্যায় করলে সেখানে বিচার পাওয়ার সুযোগ থাকবে। আবার কোনো সংবাদমাধ্যম যদি অসত্য সংবাদ প্রকাশ করে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা তার আস্থার উপর নির্ভরশীল। যতক্ষণ পর্যন্ত পাঠক, শ্রোতা, দর্শকের গণমাধ্যমের উপর আস্থা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারব।
সংলাপে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুসান ভাইজ ও সুইডেন দুতাবাসের প্রথম সচিব পাওলা ক্যাস্ট্রো নিডারস্টাম অংশ নেন।