Published : 07 Nov 2025, 10:46 PM
জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও বদলে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের এগিয়ে আসার বাধা কী দূর হয়েছে?
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদের যে চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করেছে, তাতে যে বাধা দূর হয়েছে, সেটি বলা যায় না।
বরং রাজনৈতিক দলগুলো যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, সেখানে আগামী জাতীয় সংসদের পাঁচ শতাংশ আসনে সরাসরি নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হলেও ইসলামপন্থি দলগুলোর ‘অনীহা’ স্পষ্ট।
সংসদের ৩০০ আসনের সরাসরি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে এক তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছিল ঐকমত্য কমিশন। প্রায় একই দাবি ছিল নারী অধিকারকর্মীদেরও।
ঐকমত্যের সংলাপে সে দাবি পূরণ না হওয়ায়, এমনকি পাঁচ শতাংশ আসনেও সরাসরি নারী প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ইসলামপন্থি কোনো কোনো দলের ভিন্নমত হতাশ করেছে নারী অধিকারকর্মীদের।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদারও এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ইতি টানার পর ঐকমত্য কমিশনের এই সদস্য বলেছিলেন, এখন আর ‘তেমন কিছু করার নেই’।
সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব, খসড়ায় যা আছে
বৃহস্পতিবার জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছে ঐকমত্য কমিশন, সেখানে জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ১০০ আসনে উন্নীত করার বিষয়ে কোনো দলেরই দ্বিমত নেই।
তবে তা কীভাবে করা হবে তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি আসন বহাল রেখে সংবিধানের ৬৫ (৩) অনুচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
এ ক্ষেত্রে ৩০ দলের মধ্যে ভিন্নমত দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ। এ দুটি দল ১০০ আসনে সরাসরি ভোটের পক্ষে।
কমিশনের প্রস্তুত করা সেই জুলাই সনদের খসড়ায় বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের পর সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে; তবে এটি সংবিধানে উল্লেখ করা হবে না।
পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো ন্যূনতম ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে।
এ বিষয়ে ভিন্নমত এসেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির তরফে।
৩১ জুলাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের শেষ দিন এক ফ্রেমে সবাই। সেখানেও নারীর উপস্থিতি নগণ্য।
ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ বর্ধিত হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ায়।
এ ক্ষেত্রে ওই তিনটি দলের পাশাপাশি ভিন্নমত দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।
সনদের খসড়ায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বাড়ানোয় ২০৪৩ সাল পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
তবে, সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থীর লক্ষ্য ২০৪৩ সালের আগে অর্জিত হয়ে গেলে, সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত বিধান নির্ধারিত সময়ের আগেই বাতিল হবে।
এর ওপর ভিন্নমত দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন, খেলাফতে মজলিস ও নেজামে ইসলামী পার্টি।
নারী প্রতিনিধিত্ব প্রশ্নে ঐকমত্যের সংলাপ
গত বছরের ৫ অগাস্ট যে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল, তাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীর অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত।
ফলে অন্তর্বর্তী সরকার যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে হাত দিল, তখন অনেকেই আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন, এবার হয়ত সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ মিলবে।
সরকার যে ১১টি সংস্কার কমিশন করেছিল, তার মধ্যে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন সংসদীয় আসনের সংখ্যা ৬০০ তে উন্নীত করে ৩০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের সুপারিশ করেছিল।
কিন্তু ঐকমত্য কমিশন যেসব সুপারিশ নিয়ে কাজ করেছে, সেখানে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের জায়গা হয়নি।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশন ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের আলাদা দুটি প্রস্তাব ছিল। সংরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে ১০০ করার পাশাপাশি সরাসরি ভোটের প্রস্তাব করেছিল দুই কমিশনই।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সংরক্ষিত ১০০টি নির্বাচনী এলাকায় কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, এর মধ্য দিয়ে নারী সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত হবেন।
আর নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন সংরক্ষিত ১০০ আসনে ‘ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে’ সরাসরি ভোটের প্রস্তাব করে।
এ প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদে নির্বাচনী এলাকা হবে ৪০০। এর মধ্যে ১০০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রথমবার দ্বৈবচয়ন বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে ঠিক করা হবে, কোন ১০০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত হবে। পরের সংসদ নির্বাচনে অন্য ১০০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত হবে। এভাবে সংরক্ষিত নারী আসন ঘুরতে থাকবে বলে একে ‘ঘূর্ণায়মান পদ্ধতি’ বলা হচ্ছে।
ঐকমত্যের সংলাপে ওই দুই প্রস্তাবের কোনোটিতেই একমত হতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো।
ঐকমত্য কমিশন তখন নতুন একটি প্রস্তাব দেয়। সেখানে বলা হয়, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বিলুপ্ত হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব দল ন্যূনতম ২৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, সেসব দল তাদের মোট প্রার্থীর মধ্যে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ আসনে নারী প্রার্থিতা নিশ্চিত করবে। সেজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। রাজনৈতিক দলগুলো এ প্রস্তাবেও একমত হয়নি।
কমিশন তখন সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা এবং সরাসরি ভোটের প্রস্তাব রাখে। দলগুলো তাতেও একমত হতে পারেনি।
এরপর ঐকমত্য কমিশন ৫০টি সংরক্ষিত আসন বহাল রেখে ৩০০ সাধারণ আসনের ৫-৭ শতাংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবেও মতৈক্য আসেনি।
৩০ জুলাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারীদের সংরক্ষিত ৫০ আসন ঠিক রেখে সংসদের ৭ শতাংশ আসনে সরাসরি নির্বাচনের জন্য নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আর বিএনপির পক্ষ থেকে ৫ শতাংশ আসনে সরাসরি নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে বিদ্যমান ৫০টি সংরক্ষিত আসন বহাল রাখা হবে। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল বিদ্যমান ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। তার পরের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো ন্যূনতম ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে।
ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ বর্ধিত হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন অব্যাহত থাকবে। এ বিধান সংবিধানে যুক্ত হবে।
বিদ্যমান ব্যবস্থায় সংসদে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনে সদস্য মনোনয়ন দেয়।
যা বলছে বিএনপি
বৃহস্পতিবার সকালে নাগরিক কোয়ালিশনের এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “নারী আসনের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকেই ৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে, অন্য কোনো দলের পক্ষ থেকে নয়।
“এইবার সংবিধানে সংশোধনী হওয়ার আগেই আসন্ন নির্বাচনে ৫ শতাংশ সরাসরি মনোনয়ন দেওয়ার জন্য আমাদের এ প্রস্তাব ছিল।”
তিনি বলেছেন, সংসদ গঠিত হলে সংবিধানের যে সংশোধনী আসবে, সেই জায়গায় এটা ১০ শতাংশ বলা হয়েছে। অবশ্য কেউ কেউ ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছে।
যা বলছে ইসলামপন্থি দলগুলো
সংসদ নির্বাচনে পাঁচ শতাংশ আসনে নারীদের সরাসরি মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে নয় ইসলামপন্থি দলগুলো। তিনটি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের এ মনোভাব জানা গেছে।
তাদের যুক্তি, এই বেঁধে দেওয়া শর্তে নারীর অগ্রগতিকে আরও ‘বাধা’ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নারী আসন নিয়ে কমিশনে আলোচনা চলছে। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। আমরা সংরক্ষিত নারী আসনের পক্ষে মত দিয়েছি। কিন্তু সরাসরি প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে মতামত দেইনি।
“এখন দেখা যাক, কমিশন কি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। কমিশনের সিদ্ধান্ত পেলে দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় আসবে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৭ শতাংশের যে কথাটা কমিশন ৩০ জুলাই বলেছিল, সেটা অনেকটা অনুরোধের মতো বলেছে৷ আমরা সরাসরি প্রার্থী মনোনয়নের কথা চিন্তাই করছি না, আমরা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের কথা বলছি।”
তিনি বলেন, “যদি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, সেক্ষেত্রে আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন করব। আমাদের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই নারী ইউনিট আছে। তাই প্রার্থী মনোনয়নের কোনো অসুবিধা হবে না।”
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খেলাফত মজলিস মনে করে, নারীদের সর্বক্ষেত্রে অগ্রসরতা এবং এগিয়ে আসার জন্য নিরাপত্তা, পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়টি জোরদার করে সুযোগ দেওয়া উচিত। এটা আমরা মনে করি।
“কিন্তু, আইনগত বাধ্যবাধকতার দ্বারা কারো অগ্রযাত্রাকে নির্ধারিত সীমার ভেতরে রাখা, এটাও কিন্তু ক্ষমতায়নের বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।”
তিনি বলেন, “নারীরাও যদি ৫০ শতাংশ নির্বাচন করতে পারে, রাষ্ট্র আইন করে কিছু শতাংশে রাখবে কেন? মূল বিষয়টা হচ্ছে নারীরা যেন তার অধিকারের জন্য এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্য সুষ্ঠু পরিবেশ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
নারী অধিকারকর্মীরা ‘হতাশ’
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ১৫০টিতে উন্নীত করে জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছিল ৭১টি সামাজিক সংগঠনের মোর্চা—সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।
এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে নারীর ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছিল কমিটি।
সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে তাদের সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়নি।
২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল আরপিওতে। ২০০৮ সালে নিবন্ধন নেওয়ার সময় দলগুলো তা পূরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে পারেনি নিবন্ধিত দলগুলো।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটিভুক্ত সংগঠন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। কিন্তু আমরা এখনও নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারিনি। রাজনৈতিক দলগুলো ৩৩ শতাংশ বা এক তৃতীয়াংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়নে একমত হয়নি, যা দুঃখজনক।
“তবে আমরা আমাদের দাবিটা জারি রাখব, সভা-সমাবেশ ও সেমিনারের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলব। আমরা আশা করব রাজনৈতিক দলগুলো নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার গুরুত্ব বুঝে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে।”
জাতীয় সংসদে ১০০ সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন এবং নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেছিল নারী অধিকারকর্মীদের সংগঠন ‘নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’।
ওই সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশে অর্ধেকের বেশি নারী, তারা এখন রাজনীতি সচেতন। তারা ভোট দিতে আসছেন। সে হিসেবে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এক তৃতীয়াংশ আসনে সরাসরি নারী প্রার্থী মনোনয়ন ও নারীদের আসনে সরাসরি নির্বাচন জরুরি। আমরা আশা করি রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সহনশীল হবে।”
আরও পড়ুন:
জুলাই সনদ: ৮৪ বিষয়ে 'ঐকমত্য', আদালতে প্রশ্ন তুলতে পারবে না দলগুলো
'নতুন' বাংলাদেশেও রাজনীতির প্যাঁচে আটকে থাকবে নারীর প্রতিনিধিত্ব?
সংসদ ও দলে নারীর বিধান বাতিল চায় খেলাফত আন্দোলন
সংসদের ৩০০ আসনের ৭ শতাংশে নারী প্রার্থীর প্রস্তাব ঐকমত্য কমিশনের
নারী প্রতিনিধিত্ব: আরপিও সংশোধন হয়নি, দলগুলোরও 'গা' নেই
নারী কমিশন: সরকারের ভূমিকায় 'হতাশ' গীতি আরা