Published : 15 Jan 2026, 12:48 AM
শতভাগ রপ্তানিমুখী খাতকে শ্রমিকদের মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) গঠনের বাধ্যবাধকতা থেকে ‘স্বেচ্ছাচারী ও বৈষম্যমূলকভাবে’ অব্যাহতি দেওয়া কেন আইন বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
বুধবার এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও মো. আনোয়ারুল ইসলামের হাই কোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করে।
রুলে সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ওমর সাদাত।
শ্রম আইনের ২৩৪ ধারায় শ্রমিকদের লভ্যাংশের ৫ শতাংশ দেওয়ার কথা বলা ছিল। সেখানে বলা হয়, মালিক প্রত্যেক বছর শেষ হওয়ার নয় মাসের মধ্যে, আগের বছরের নিট মুনাফার ৫ শতাংশ অর্থ অংশগ্রহণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে দিবে।
পরবর্তীতে শ্রম বিধিমালা ২০১৫ তে ক্রেতা ও মালিকের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি কার্যাদেশের বিপরীতে দশমিক শূন্য ৩ (০.০৩) শতাংশ অর্থ এই তহবিলে জমা হবে। ওই বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো কারখানায় কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করা হলে লভ্যাংশে শ্রমিকের অংশগ্রহণের বিধান প্রযোজ্য হবে না।
রিট আবেদনটি দায়ের করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে ৫ শতাংশ লভ্যাংশের বিষয়টি বন্ধ হয়ে যায়।
২০১৫ সালের শ্রম বিধিমালার ২১২ ধারায় শতভাগ রপ্তানীমুখী শিল্পে ক্রেতা ও মালিকের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। ২১৪ ধারায় এই তহবিলের উৎস সম্পর্কে বলা হয়েছে, রপ্তানীমুখী প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কার্যাদেশের বিপরীতে দশমিক শূন্য ৩ (০.০৩) শতাংশ অর্থ এই তহবিলে জমা হবে।
পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৫ শতাংশ লভ্যাংশের বিষয়টি কোনো কারখানাই বাস্তবায়ন করতো না দেখে সরকার রানা প্লাজা ধসের পর বিধিমালায় এই কেন্দ্রীয় তহবিলের বিষয়টি যুক্ত করা হয়, যাতে কোনো দুর্ঘটনায় খরচটা বহন করা যায়। এখন কার্যাদেশের বিপরীতে ব্যাংক থেকে এই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়।
রিটকারী বাবুল আক্তার বলছেন, “আইনে ২৩৪ ধারা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। যার কারণে ৫ শতাংশ লভ্যাংশের পরিবর্তে তাদের ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় তহবিলের মতো একটি বিষয়। যেহেতু আইনে আছে, আমরা দুটোরই বাস্তবায়ন চাই। এবং ২০১৩ সাল থেকে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ করার পর এই বাবদ যত টাকা পাওনা হয়েছে আমরা সেটাও ফেরত চাই।”