১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বিটিভির ধ্বংসযজ্ঞ দেখে চোখ ভিজে উঠল প্রধানমন্ত্রীর

বিটিভি ভবনে পৌঁছানোর পর ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি সেকশন ঘুরে দেখেন শেখ হাসিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jul 2024, 07:51 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:12 PM

কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে সংঘাতে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ টেলিভিশন-বিটিভি ভবন পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি সেকশন ঘুরে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিটিভির কর্মকর্তারা।

বিটিভির ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সরকার প্রধান। এসময় তার চোখ ভিজে ওঠে। 

বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিটিভির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সরকারপ্রধানকে একটি ভিডিওচিত্রও দেখানো হয়। 

বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের সান্ত্বনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী মিরপুর ১০ নম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গত ১৮ জুলাই কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির দিন সকাল থেকে উত্তপ্ত ছিল ঢাকার রামপুরা-বাড্ডা এলাকা। বিটিভিতে প্রথম হামলা হয় বেলা ১১টার দিকে।

এরপর ওইদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিন দফায় হামলার পর ৭টা ৪ মিনিটে সম্প্রচার বন্ধ এবং বিটিভি শাটডাউন করে স্টেশন ত্যাগ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে চতুর্থ দফা হামলা হয়। হামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাটও চালানো হয়। এতে ২২ ঘণ্টা সম্প্রচার বন্ধ ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত এই টিভি স্টেশনটির।

বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চার দফা হামলা হলেও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিটিভিতে প্রবেশ করতে পারেনি। রাত ১০টার দিকে বাহিনীর সদস্যরা বিটিভির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং রাত ১২টায় ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে এর আগেই আগুনে পুড়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ, যন্ত্রপাতি, সম্প্রচারসামগ্রী ও গাড়ি। বর্তমানে সেনা সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের অভ্যর্থনা ও নিরাপত্তা কক্ষ, সামগ্রী রক্ষণাগার, ঢাকা কেন্দ্রের দ্বিতীয়তলায় ২৫টি কক্ষ এবং তৃতীয় তলার ১৬টি কক্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলাকারীরা ১৭টি গাড়িতে আগুন দেয় এবং ৯টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ২ ও ৩ নম্বর গেইট সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলেছে। সদর দপ্তরের প্রথম থেকে ষষ্ঠতলা পর্যন্ত লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

বিটিভির মহাপরিচালক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এটি এখনই বলা সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি করা হয়েছে। বিটিভি থেকেও আমরা একটি কমিটি করেছি। বিটিভি থেকে মামলাও করা হয়েছে। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে অনেক সময় লাগবে। তদন্ত প্রতিবেদন আসার পর বলা যাবে।”

উন্নয়ন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়াতে হবে: প্রধানমন

আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বিটিভিতে, প্রচার বন্ধের শঙ্কা

এভাবে ধ্বংস মানতে পারছি না: প্রধানমন্ত্রী