Published : 26 Jan 2025, 09:06 PM
সড়ক ছেড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে জড়ো হলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু হয়েছে।
রোববার মধ্যরাতে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে তাদের মধ্যে ইট পাটকেল ছোঁড়াছুড়িও হয়। এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে নিউমার্কেট ৪ নং গেইটের দিকে নিয়ে যায়।
পরে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ধাওয়া দেয়।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ ও নীলক্ষেত মোড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর আগে রাত সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ের অবরোধ থেকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের দিকে যেতে শুরু করেন। তারা নীলক্ষেত মোড় দিয়ে গিয়ে ক্যাম্পাসের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে অবস্থান নেন।
এদিকে তাদের এ কর্মসূচির খবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন হল থেকে লাঠি সোঁটা হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে সামনে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
সাইন্সল্যাবে আন্দোলনরত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাওয়া শুরু করলে তাদের সঙ্গে যোগ দেন ঢাকা কলেজের বিভিন্ন হল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা।
তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদের বাসভবনে অভিমুখে রওনা হওয়ার ঘোষণা দেন। মিছিল সহকারে ক্যাম্পাসের দিকে যাওয়ার সময় তাদের হাতে লাঠি সোঁটা দেখা গেছে।

তাদের দাবি, "অধ্যাপক ডক্টর মামুন আহমেদকে তার বক্তব্যের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।"
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ বলেন, সন্ধ্যায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা রাত পৌনে ১১টায় সায়েন্সল্যাব মোড় ছেড়ে ক্যাম্পাসে উপউপাচাযের বাসার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই তারা অবরোধ তুলে সেদিকে যাওয়া শুরু করেন।

এর আগে সন্ধ্যায় ভর্তি পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতি বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ও মিরপুর সড়কের টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেছেন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
রোববার সন্ধ্যার একে একে এসব মোড় অবরোধ শুরু হলে আশপাশের সড়কগুলোয় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ, বিশেষ করে অফিস ফেরত চাকুরিজীবীরা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এসব জায়গায় ছাত্ররা অবরোধ শুরু করে বলে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার রাজীব গাইন বলেন, ঢাকা কলেজের ছাত্ররা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় আটকে রেখেছে। একই কলেজের আরেকটি অংশ অবস্থান নিয়েছে শাহবাগ মোড়ে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার বিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর বাংলা কলেজের শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেন।
“মাঝখানে কিছুক্ষণের জন্য তারা অবরোধ তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু কিছু সময় পর আবারও গিয়ে সড়কে বসে পড়েন। অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ আছে।”

এদিকে অবরোধের প্রভাবে ঢাকার প্রবেশপথ গাবতলী থেকে শুরু করে কল্যাণপুর ও শ্যামলীসহ পুরো মিরপুর রোড যানজটে আটকে পড়েছে।
সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনের ‘ফোকাল পার্সন’ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাত কলেজকে স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
“এ বিষয়ে কিছু দাবি জানাতে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু উপউপাচার্য আমাদের অপমান করেছেন। এর প্রতিবাদে আমরা সায়েন্সল্যাব, নীলক্ষেত মোড় ও এলিফ্যান্ট রোড অবরোধ করেছি।”
তিনি বলেন, “উপউপাচার্যকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি যদি এখন এসে আমাদের কাছে ক্ষমা চান, তাহলে আমরা সড়ক ছেড়ে দেব।”
এ বিষয়ে উপউপাচার্য অধ্যাপক মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভর্তি সংক্রান্ত কিছু দাবি দাওয়া নিয়ে গত ৫ জানুয়ারি একটি স্মারকলিপি দিয়ে গিয়েছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বিকালে আমি যখন অফিস থেকে বের হব তখন ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ওই দাবি-দাওয়াগুলো নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে আসেন। আমি তাদের দুইজন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলব বলে জানাই। তখন তারা সবাই ধাক্কাধাক্কি করে আমার অফিসে ঢোকার চেষ্টা করেন। আমি তাদের বলি, এখানে মবিং করলে আমি তোমাদের কথা শুনবো না। এতে তারা ক্ষেপে যায়।”
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সোমবার দুপুরে কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের সঙ্গে সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় অধ্যক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বলেন তিনি।