Published : 26 Oct 2025, 02:49 PM
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের টাকা উদ্ধার এবং সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচালক এম এ খালেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন দুদকে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, “আমরা আত্মসাৎ হওয়া টাকা ফেরত চাই।”
রিকভারি সেকশনের ইনচার্জ মাসুদ বলেন, “নজরুল-খালেকরা নজিরবিহীন লুটপাটের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছে। আইনের ফাঁক ফোকর গলে তারা বারবার বাঁচছে, আর আমরা সুবিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।”
প্রতিষ্ঠানটির আইন কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, “দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে এবং দুদকে অভিযোগ জানানো হয়েছে। আমরা দুদককে ধন্যবাদ জানাই, তারা দুর্নীতিবাজ নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।”
গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ হল, ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গ্রাহকদের অবদানে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তহবিলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা জমা হয়। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচারক এম এ খালেক কোম্পানিতে নিজেদের লোক বসিয়ে ‘ভুয়া খরচ, কাগুজে বিনিয়োগ ও ম্যানেজমেন্টের কারসাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন’।
তারা অভিযোগ করে বলেছেন, সেই অর্থের বড় একটি অংশ ‘বিদেশে পাচার করা হয়ে’ছে। এর ফলে প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক তাদের প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে প্রতিদিন অফিসে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন।
গত ২৩ অক্টোবর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে নজরুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
এর আগে গত ৩১ জুলাই দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির বাদী হয়ে নজরুল ইসলামসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ঢাকার তোপখানা রোডের একটি জমি ও স্থাপনা অনিয়মের মাধ্যমে ২০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকায় কেনাবেচা করেন।
দুদক বলছে, এই লেনদেনের মাধ্যমে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন নজরুল ইসলাম, এম এ খালেক এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।