উচ্ছেদ অভিযান চলবে, দখলের পক্ষে দাঁড়ালেই ব্যবস্থা: ডিএনসিসি প্রশাসক মিল্টন
“সাংবাদিক, সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলাকারীরাও ফ্যাসিবাদের দোসর।”
নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদে চলাচলের জন্য ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
উত্তর সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের সেবার জন্য অবৈধভাবে কাউকে ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এসব দখলের পক্ষে কেউ আসলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকের ঘটনায় মামলা হবে, যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বুধবার দুপুর ১ টায় মিরপুর-১০ এর পাশে রাস্তায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের সময় ডিশ লাইনের তার খুলে ফেলার পর এক পর্যায়ে সেখানকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে তা পাশের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ট্রান্সফরমারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন লাগার পর বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদেরও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় বলেও পুলিশের ভাষ্য। হামলা হয় সেখান খবর সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের উপরেও।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরের খবর পেয়েছি৷ সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুনের ঘটনাও আছে।
এরপর উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে বলেন, “রাষ্ট্রীয় কাজে যারা বাধা দেয়, তারা ফ্যাসিহজমের দোসর। এছাড়া সাংবাদিক, সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলাকারীরাও ফ্যাসিবাদের দোসর। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জায়গা দখল করে আছে৷ কাউকে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না।
সংবাদিকদের ব্রিফিং শেষে ডিএনসিসির প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে মিরপুর-১০ গোল চত্বর থেকে মিরপুর-১৪ এর দিকে আগুন লাগা ভবন পর্যন্ত মিছিল করেন।
ভাঙচুর-আগুন লাগার পর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মিরপুর ১৪ নম্বরের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ওই সড়কে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
দবে দুপুর ১ টার পর থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন:
