মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযান: সিটি করপোরেশনের তিন গাড়িতে আগুন
ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের সময় ডিশের তার খুলে ফেলার পর এক পর্যায়ে সেখানকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়।
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে; বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার পর এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের সময় ডিশ লাইনের তার খুলে ফেলার পর এক পর্যায়ে সেখানকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে তা পাশের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ট্রান্সফরমারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন লাগার পর বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদেরও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় বলেও পুলিশের ভাষ্য।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরের খবর পেয়েছি৷ সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুনের ঘটনাও আছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।“
এ সময় সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের উপর ওপর হামলা করে হকাররা৷ বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন একাত্তরে সাংবাদিক তানভীর সুমনকে হকাররা ঘিরে ধরে।
তিনি বলেন, "আমাকে দীর্ঘ সময় ঘিরে রেখেছিল। তবে হকারদের একটি অংশের সহায়তাতেই সেখান থেকে বের হতে পারি।"
তানভীর সুমন আরও জানিয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের গাড়ি ভাঙচুর করেন হকাররা; তারা সময় টিভির রিপোর্টার এবং ক্যামেরাম্যানকে ধাওয়া দেয়, এক পর্যায়ে দুনজনকে মারধরও করেন। প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়, পরে অবশ্য ফেরতও দেয়।
এদিকে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মিরপুর ১৪ নম্বরের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই সড়কে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে।
