Published : 12 Jul 2026, 04:24 PM
রাজধানীতে শনিবার গভীর রাত থেকে যে বৃষ্টি ঝরছে, তা বিরামহীন চলছে রোববারও।
বৃষ্টিতে দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, আরামবাগসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় জমেছে পানি। তাতে দুর্ভোগে পড়েছে পথে বের হওয়া নগরবাসী।
এছাড়া রাজধানীর কয়েকটি স্কুলে চলা অর্ধবার্ষিক ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিত করার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এই হিসাবে রাজধানীতে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
যাত্রাবাড়ী, কুতুবখালী, শনির আখরা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বেলা সাড়ে ১১টার দিকেও পানির নিচে তলিয়ে ছিল।
দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়কে পানি দেখা গেছে। পুরানা পল্টন কালভার্ট রোড হাঁটু পানি জমে আছে। ওই এলাকার ছোট ছোট দোকানে রাস্তার পানি ঢুকেছে।
শাপলা চত্বর থেকে টিকাটুলি মোড় পর্যন্ত সড়কেও পানি আছে। আরামবাগ ও ফকিরাপুল এলাকার অলিগলি তলিয়েছে পানিতে। দিলকুশা ও মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় রাস্তায় যানজট ছিল। এতে অফিসমুখী যাত্রীদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে বিপাকে পড়তে হয়।
শান্তিনগর, রাজারবাগ, নয়পল্টনের মূল সড়ক ঘুরে প্রায় হাঁটুপানি দেখা গেছে। কাকরাইলের অলিগলিতেও পানি জমে আছে।
পানি জমেছে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের ভেতরেও।
রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি পর্যন্ত সড়কও হাটুর কাছাকাছি পানিতে ডুবে ছিল। লেকসিটি ওই এলাকা থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, “খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ৩০ টাকা করে। কয়েকজন মিলে গেলে ১০-২০ টাকা করে নেয়। পুরো রাস্তায় হাঁটুর কাছাকাছি পানি থাকায় কয়েকজন মিলে চড়লেও প্রত্যেকের থেকে ১০০ টাকা রিক্সায় ভাড়া নিচ্ছে।
“অতিরিক্ত যান হিসেবে ভ্যান চলাচল করতে দেখা যায়। তারা ভাড়া নিচ্ছে প্রত্যেকের থেকে ৫০ টাকা। দূর যাতায়াতের জন্য খুঁজলেও সিএনজি মেলেনি।”
বৃষ্টিতে ডুবেছে মহাখালী এলাকার দক্ষিণপাড়ার মূল সড়ক। ভিজে-ভিজে টঙ্গী থেকে অফিসে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আকাশ রহমান বলেন, “অবিরাম বৃষ্টিতে মনে হচ্ছে পুরো ঢাকাই ডুবে গেছে। বহু কষ্টে অফিসে এলাম। এমন বৃষ্টি দেখিনি আগে।”
টানা ভারি বর্ষণের ফলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচের অংশসহ বনানী, খিলক্ষেত, ঢাকা গেইট এবং মহানগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যানবাহনের চলাচলে গতি ধীর হয়। এছাড়া কয়েক জায়গায় যানজট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়ে ট্রাফিক গুলশান বিভাগ।
বিশেষ করে কাকলী মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নেমে আসা যানবাহন এবং নিচের সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে।
মেট্রোরেল স্বাভাবিকভাবে চলেছে। তবে যাত্রীর চাপ বেশি ছিল। সচিবালয় ও মতিঝিল স্টেশনে বৃষ্টির সময় কর্মজীবী মানুষের ভির ছিল।
সড়কে এদিন ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং মোটরসাইকেল তেমন একটা দেখা যায়নি। গণপরিবহনে ভিড় স্বাভাবিকদিনের চেয়েও বেশি।
এদিন নয়া পল্টনের লম্বা সড়কে কোমরসমান পানি দেখা গেছে। এই সড়কে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কার্যালয়ের নিচতলায় পানি ঢুকেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুটপাতের ওপরে দিয়ে পানি বিএনপির অফিসের নিচের তলার সিড়ির কাছে থৈ থৈ করছে।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সকালে অফিসে যান, দুপুরে যখন তিনি কার্যালয় থেকে বের হন, তখন ভেতরে একটি রিকশা নিয়ে তারপর তাকে বাইরে আনা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কর্মী সোহেল মাহমুদ বলেন, “নয়া পল্টনের সড়কে পানি এত বেশি আটকে আছে যে, পুরো সড়কটাই ডুবে গেছে। যান্ত্রিক যানও চলতে পারছে না পানি কারণে। কারণ ইঞ্জিনে পানি ঢুকলে বন্ধ হয়ে যায়।”
বিএনপির অফিস কর্মী শামীম বলেন, সকাল থেকেই পল্টনের সড়কের পানি জমতে শুরু করে।
“সকাল ৯টার আগেই ফকিরের পুল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত লম্বা সড়ক যেন কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মত পানি ঢেউ এসে কার্যালয়ের ভেতরে আচড়ে পড়ছে।
‘‘আমি অফিসে ছিলাম। আমাদের কয়েকজন সহকর্মীকে পানি ডিঙিয়ে অফিসে আসতে হয়েছে।”
বিজয়নগরের কাছে পরিচ্ছিন্নতা কর্মী সুলায়মান বলেন, “সকালে কাজে বেরিয়ে দেখি রাস্তায় পানি। পানি ডিঙিয়ে মানুষজনের ঘর থেকে ময়লা সংগ্রহ কঠিন কাজ। সকালে বৃষ্টির মাত্রা বেশি ছিল। ফলে ময়লা সংগ্রহ থমকে গেছে।”
“এখনো অনেক বাড়ি-ঘরে ময়লা সংগ্রহ বাকী আছে। অন্যসময় দুপুরের মধ্যে কাজ শেষ হতো । আজকে এখন বেলা দুইটা বাজে কাজ শেষ করতে পারিনি।”
নয়া পল্টনের সড়কের দুই ধারে রয়েছে গাড়ির শো-রুম। রয়েছে বিপনী বিতান। এই সড়কের পাশের সব দোকানপাটে পানি প্রবেশ করেছে।
বিজয়নগরের বাসিন্দা আনোয়ারুল আলম খান বলেন, “অফিসে যেতে বের হয়ে পুরোটা ভিজে গেছি। আবার বাসায় এসে কাপড় বদলিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি।
“এত পানি সড়কে যে, কোনো রিকশা কিংবা অটো যাচ্ছে না। দেখবেন নয়া পল্টনের সড়কে বিভিন্ন স্থানে সিএনজি এবং ছোট প্রাইভেট কার থেকে আছে। কারণ ওইসব যানে পানি ঢুকে যাওয়ায় তা চলছে না। একটা অস্বস্তিকর অবস্থা।”
তিনি বলেন, “আধাবেলা টানা বৃষ্টি হলেই মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, নয়া পল্টন ডুবে যায়। এটা নতুন কোনো সমস্যা নয়। আমার মনে হয়, সরকারের এই দিকে দ্রুত নজর দেয়া উচিত।
“রাজধানী যদি ডুবে থাকে তাহলে তো দেশ চলবে কিভাবে?”
স্কুলে পরীক্ষা স্থগিত
বৃষ্টির কারণে রাজধানীর কয়েকটি স্কুলে চলা অর্ধবার্ষিক ও অন্যান্য পরীক্ষা স্থগিত করার খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা, দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা এবং একাদশ শ্রেণির ব্যবহারিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন শিক্ষক।
এদিকে তানুজা আকবর নামের এক অভিভাবক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ধানমণ্ডি কামরুন্নেছা স্কুলের অর্ধবার্ষিকী এবং প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা বৈরি আবহাওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়েছে।